শফিকুল ইসলাম, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
যৌতুকের দাবিতে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়ার সুমি আক্তার মীম (২২) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে স্বামীসহ অভিযুক্তর আত্মগোপনে রয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূর ১৭ মাস বয়সী শিশুসন্তানেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
নিহত সুমি আক্তার মীম আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকশী গ্রামের আলিম হাওলাদারের মেয়ে। এ ঘটনায় মীমের বাবা বাদী হয়ে মাদারীপুরের ডাসার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার বিবরণ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার আজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিজ আকনের ছেলে ফরহাদ আকনের (৩৮) সঙ্গে মীমের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। তাদের সংসারে ১৭ মাস বয়সী একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ফরহাদ, শ্বশুর আজিজ আকন, শাশুড়ি ও দেবর মিলে মীমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মীম এর আগে বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি যৌতুক নিরোধ মামলা (সিআর মামলা নং-১৩০/২০২৪, তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪) দায়ের করেছিলেন, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ১৭ জুলাই মীমকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে পুনারায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। এরপর গত মঙ্গলবার বিকেলে তাদের জানানো হয়, মীম অসুস্থ অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে খোঁজাখুঁজির পর নতুন ভবনের নিচতলায় ওড়না দিয়ে ঢাকা অবস্থায় মীমের লাশ দেখতে পান। ওই সময় লাশের পাশে শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। মীমের লাশের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও ফোলা আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে স্বজনরা দাবি করেন।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি দেবরের দাবিকৃত স্বর্ণালংকার দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিকল্পিতভাবে মীমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহামুদ জানান, ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও পোস্টমর্টেম রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




