উদ্বোধনের আগেই বন্ধ বরিশাল শিল্পমেলা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

উদ্বোধনের দিনেই বন্ধ হয়ে গেল মাসব্যাপী বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এ মেলা স্থায়ীভাবে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসন ও আয়োজক সংস্থাকে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে মেলার উদ্বোধনের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে আদালতের আদেশ পৌঁছালে তা আর সম্ভব হয়নি। পরে মেলা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত ১৮ মে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরেশ সাগর মাঠে শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আয়োজন বন্ধ চেয়ে জনস্বার্থে রিট করেন মানবাধিকার কর্মী রনি সিকদার।

রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি-সচিবকে বিবাদী করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, স্কুল প্রাঙ্গণে বাণিজ্য মেলার আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটাবে, নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে এবং অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নষ্ট করবে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার সময় এমন আয়োজন শিক্ষার অধিকারের পরিপন্থি বলেও উল্লেখ করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত একটি রুল জারি করে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০ মে থেকে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে কোনো বাণিজ্য মেলা আয়োজন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিকেল ৫টায় মেলা উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেয় আয়োজক প্রতিষ্ঠানবরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। এতে দর্শনার্থীরাও মেলার মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন।

কিন্তু উদ্বোধনের আগেই উচ্চ আদালতের নির্দেশনার নথি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হাতে পৌঁছালে পুরো আয়োজন স্থগিত করা হয়।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এবাদুল হক চাঁন নিজের প্রভাব খাটিয়ে মেলার আয়োজন করেছিলেন। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আমন্ত্রণ না দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়।

অন্যদিকে, শুরু থেকেই ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্কুল মাঠে মেলার আয়োজনের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এসএসসি পরীক্ষার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা উচিত নয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খায়রুল আলম সুমন এবং বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন রিসিভ হয়নি।

কালবেলা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top