গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারিছুর রহমান হারিছ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার খবরে মঙ্গলবার দিনভর উপজেলা জুড়ে উল্লাস প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে তার ফাঁসির দাবি জানিয়ে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গৌরনদী উপজেলা বিএনপি।
জানাগেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই ও বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে মেয়র হারিছ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তারা বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে এলাকায়। নানা কৌশলে তিনি দলের পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদেরকে দুরে ঠেলে দিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসনির্ভর ও তেলবাজ হাইব্রিড নেতা-কমীদের স্বর্গরাজ্যে দলে পরিণ করেছিলেন বলেও অভিযোগ আছে।
তার নিজস্ব বাহিনীটি হারিছ বাহিনী নামে পরিচিত ছিল। ওই বাহিনীটি একাধিকবার নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায়। এতে একাধিক প্রানহানির ঘটনাও ঘটেছে। এলাকায় টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজীসহ সন্ত্রাস নৈরাজ্য সৃষ্টির পাশাপাশি মাদক বানিজ্যে নিয়ন্ত্রণ করত গ্রুপটি।
৫অক্টোবর হাসিনা সরকারের পতনের পর সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও যেতে পারেননি হারিছ। তিনি উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের পৈত্রিক বাড়িতে আটকা পড়েন। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে তার সহয়তায় একটি এ্যাম্বুলেন্সে চড়ে গত ৬ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার হোসনাবাদ লঞ্চঘাটে পৌছেন হারিছ। সেখান থেকে ট্রলারে পালরদী নদী পাড়ি দিয়ে তিনি মুলাদী উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন ৭ অক্টোবর তিনি লঞ্চযোগে রাজধানী ঢাকায় পৌছে আত্মগোপন করেন।
গোপন সুত্রে খবর পেয়ে রামপুরা থানা পুলিশের সহয়তা নিয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া সাবেক মেয়র হারিছের বিরুদ্ধে থানায় ৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশ তাকে দীর্ঘদিন যাবত খুঁজছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ঢাকার রামপুরা এলাকায় অভিযান চালায়। ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সে আত্মগোপনে ছিল। পুলিশ সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে এলাকার নির্যাতিত সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসে উল্লাসে ফেঁটে পড়েন। তারা উপজেলার বিভিন্ন রাজপথ, হাট-বাজার বাসষ্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। গৌরনদী উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরাও সাধারন জনতার সাথে রাজপথে নেমে আসে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। অসংখ্য নারী-পুরুষ এ সময় ঝাড়ু হাতে মিছিলে অংশ নেয়। মিছিল শেষে বাসষ্টান্ডের জিরো পয়েন্টে তারা একটি সমাবেশ করে। সেখানে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম কাজল, গৌরনদী পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শরীফ শফিকুর রহমান স্বপন, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ ফরিদ মিয়া, বরিশাল উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু প্রমুখ।




