ওসমান ডেম্বেলের জোড়া গোলে সেমিতে পিএসজি

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডে সবকিছুই ছিল লিভারপুলের পক্ষে। সমর্থকদের সমর্থন, ম্যাচের গতি, আক্রমণের তীব্রতা। যা ছিল না, তা হলো গোল। আর সেটারই মূল্য দিতে হলো শেষ পর্যন্ত।

 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) অ্যানফিল্ডে ওসমান ডেম্বেলের জোড়া গোলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি শুধু ম্যাচই জিতেনি, দুই লেগ মিলিয়ে নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনালে জায়গাও। বিদায় নিতে হয়েছে লিভারপুলকে।

 

প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা লিভারপুল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে বাধ্য ছিল। আর্নে স্লটের দল চেষ্টা করেছে ম্যাচের গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে। প্রথম ১৫ মিনিটে সেই ইঙ্গিতও মিলেছে।

 

তবে পিএসজি ছিল স্বভাবসুলভ ঠাণ্ডা। বলের দখল ধরে রেখে তারা ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছে। লিভারপুল চাপ তৈরি করলেও পরিষ্কার সুযোগ খুব একটা আসেনি।

 

মাঝে ইনজুরির ধাক্কাও খেতে হয় দুই দলকে। খেলার গতি কিছুটা কমে যায়, তবে লড়াইয়ের তীব্রতা কমেনি।

 

দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুল আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। গাকপোর শট, একের পর এক আক্রমণ, এমনকি পেনাল্টির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভিএআর সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেয়।

 

ম্যাচ তখনও গোলশূন্য, কিন্তু চাপ বাড়ছিল পিএসজির ওপর। গ্যালারির চিৎকারে বাড়ছিল উত্তেজনা। মনে হচ্ছিল, একটি গোলই বদলে দিতে পারে সবকিছু।

 

ঠিক তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

 

ডান দিক দিয়ে গড়া আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ডেম্বেলে ঠাণ্ডা মাথায় ফিনিশ করেন। অনেকক্ষণ ধরে চুপ থাকা এই ফরোয়ার্ড এক মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন নিজের হাতে।

 

এই গোলের পর লিভারপুলকে ঝুঁকি বাড়াতেই হয়। কিন্তু সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তাদের বিপদ ডেকে আনে। ম্যাচের শেষদিকে আরেকটি গোল করে ব্যবধান বাড়ান ডেম্বেলে, নিশ্চিত হয়ে যায় ফলাফল।

 

লিভারপুল লড়াই করেছে, সুযোগও পেয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার্যকারিতার ঘাটতিই তাদের ছিটকে দিয়েছে।

 

আর পিএসজি আবারও দেখাল কেন তারা ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। কঠিন সময়েও ধৈর্য ধরে থাকা এবং সুযোগ এলে তা কাজে লাগানোই তাদের বড় শক্তি।

 

সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ বা বায়ার্ন মিউনিখ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top