বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পহেলা বৈশাখে ঘটেছে এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন ঘটনা। ১৭ বছর ধরে ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা ভেঙেছেন ৭৯ বছরের বৃদ্ধ ইনু মিয়া। তার প্রতিজ্ঞা ভাঙার সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী নিজেই ইনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার মুখে ভাত তুলে দেন।
জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে একটি নির্বাচন কেন্দ্র ঘিরে সহিংস ঘটনার শিকার হন ইনু মিয়া। সে সময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর হাতে তিনি লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি শপথ নেন বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না।
ভাত বাদ দিয়ে পুড়ি, সিঙ্গারা, বড়া, চিড়া, মুড়ি ও রুটির মতো খাবার খেয়েই জীবনযাপন করেছেন ইনু মিয়া। পরিবার ও স্বজনদের অনুরোধেও তিনি সিদ্ধান্ত থেকে সরেননি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রতিজ্ঞা ভাঙেননি। তিনি অপেক্ষা করছিলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি নিজে এসে তাকে ভাত খাওয়াবেন।
অবশেষে পহেলা বৈশাখের দিন সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। ইনু মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম নিজ হাতে তার মুখে ভাত তুলে দেন। এই দৃশ্য ঘিরে উপস্থিত সবার মধ্যে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত।
ইনু মিয়া বলেন, আমি ১৭ বছর আগে নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েছিলাম তখন ভোট দিতে দেয়নি। ভোটের জন্য প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করে। তাই প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাব না।
ইনু মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম জানান, বহু চেষ্টা করেও স্বামীকে ভাত খাওয়ানো সম্ভব হয়নি। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, বিভিন্নভাবে বোঝানোর পরও কিছুই কাজে আসেনি। হঠাৎ ভাত খাওয়া বন্ধ করায় মাঝে মাঝে অসুস্থও হয়ে পড়তেন তিনি, তবুও প্রতিজ্ঞা থেকে সরে আসেননি।
স্থানীয় যুবদল নেতা রমিজ উদ্দিন খোকন বলেন, ইনু মিয়া তার ফুফা হোন এবং তিনি সত্যিই নিজের প্রতিজ্ঞায় অটল ছিলেন। এমনকি বর্তমান সংসদ সদস্য যখন তাকে ভাত খাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, তখনও তিনি শর্ত দিয়েছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, তাদের (ইনু) মতো ব্যক্তিদের জন্য আজকে বিএনপি এই পর্যায়ে এসেছে। তিনি নিজের প্রতিজ্ঞা রেখেছেন। তার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী রাজপথে দলের জন্য জীবন দিয়েছে। দল যখন ক্ষমতায় এসেছে তখন তার (ইনু) বাড়িতে এসেছি ভাত খাওয়ানোর জন্য। বিএনপি তার সঙ্গে আছে এবং থাকবে। তার ঘর ভাঙা, তাকে একটি ঘর করে দেওয়া হবে। এশিয়া পোস্ট




