ইলেকটোরাল কলেজ কী ও কেন

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বিশ্বের অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কিছুটা ব্যতিক্রমী। এখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে। যা অনেকটা পরোক্ষ ভোটিং সিস্টেম। সহজ করে বললে, সাধারণ ভোটাররা নির্বাচিত করেন ইলেকটরদের, এরপর তারা প্রেসিডেন্ট বাছাই করেন।

অর্থাৎ পপুলার ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় না। যে কারণে ২০১৬ সালে দেশব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ভোট বেশি পেয়েও জিততে পারেননি হিলারি ক্লিনটন, কারণ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে তিনি হেরে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে।

কোন অঙ্গরাষ্ট্রে কতগুলো ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে তার তালিকা

নিয়ম অনযায়ী পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল এরিয়ায় ভাগ করা হয়। প্রতিটি অঙ্গরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ও আয়তন অনুযায়ী সেখানে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা ঠিক করা হয়। পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বোচ্চ ৫৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। তবে তিনটির কম নেই কোন অঙ্গরাষ্ট্রে। কোন অঙ্গরাষ্ট্র যাতে গুরুত্ব না হারায় সে কারণে সর্বনি¤œ তিনটি ভোট রাখা হয়েছে।

৫৩৮টি নির্বাচনী এলাকায় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করেন, যাকে ইলেকটর বলা হয়। সাধারণ ভোটাররা ইলেকটরদের ভোট দিয়ে থাকেন। তারপর বিজয়ী ইলেকটরগণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। যিনি অর্ধেকের বেশি বা ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট নিশ্চিত করবেন তিনিই যাবেন হোয়াইট হাউজে।

নিয়ম অনুযায়ী একটি অঙ্গরাষ্ট্রের সবগুলো ইলেকটোরাল কলেজ ভোট একজন প্রার্থীর পক্ষেই যাবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোন অঙ্গরাষ্ট্রের দুই প্রার্থী ভাগাভাগি করে কিছু আসন জিতলেও সব ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পাবেন যে কোন একজন। অঙ্গরাষ্ট্রের সব ভোট গণনা করে মোট ভোটে যে প্রার্থী বেশি পাবেন, তার পক্ষে যাবে ওই অঙ্গরাষ্ট্রের সবগুলো ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। এই পদ্ধতিেেক বলা হয় উইনার টেকস অল। অর্থাৎ বিজয়ীর পকেটে সবগুলো ভোট যাবে। এভাবে প্রতিটি স্টেটে বিজয়ী নির্ধারিত হবে এবং যিনি ২৭০ ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের ম্যাজিক ফিগার পূরণ করতে পারবেন তিনিই যাবেন হোয়াইট হাউজে।

সাধারণ ভোটের পর বিজয়ী ইলেকটরগণ পার্লামেন্টে গিয়ে আবার ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাছাই করবেন। এটি অবশ্য নিছকই আনুষ্ঠানিকতা। কারণ সাধারণ ভোটের ফলাফলের দিনই জানা হয়ে যায় কোন প্রার্থী জিততে চলেছেন। কারণ কোন অঙ্গরাষ্ট্রের ইলেকটোরাল ভোটগুলো কে পেয়েছেন সেটিই নির্ধারণ করে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ভাগ্য।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পার্লামেন্টে ইলেকটোরাল কলেজ প্রতিনিধিরা ভোট দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাছাই করবেন এবং একই মাসের ২০ তারিখ জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পরবর্তী চার বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন নতুন প্রেসিডেন্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top