৬ মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে ৩১ পরিবার

 

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার খেজুরবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১৫ থেকে ১৭ বছর ধরে বসবাসরত ৩১টি ভূমিহীন পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কোনো ধরনের নোটিশ বা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় তাদের ঘরগুলো।

২০২৩ সালের ২২ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বানারীপাড়াকে ‘ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়। এর এক বছর পর, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজিদুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় খেজুরবাড়ি আশ্রয়ণে।

ইউএনও জানান, উক্ত ৩১টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সরকারি ঘরে বসবাস করে আসছে। তাদের দেখানো কাগজপত্র প্রশাসনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। পূর্বেও তাদের ঘর ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যা তারা মানেনি। বাধ্য হয়ে প্রশাসন ঘর তালাবদ্ধ করে।

অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরের ভেতরে রয়ে গেছে খাবার, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় তারা বিগত ছয় মাস ধরে তালাবদ্ধ ঘরের সামনেই অস্থায়ী ছাউনি করে বসবাস করছেন।

তারা জানান, নদীভাঙনে বাড়িঘর হারিয়ে তারা ওই প্রকল্পে ওঠেন। তৎকালীন ইউএনও ও ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করে তাদের ঘরে থাকতে দেন। তাদের অনেকের নামে বিদ্যুৎ সংযোগ, ট্যাক্স পরিশোধের রশিদ, এমনকি জাতীয় পরিচয় পত্রেও এই ঠিকানাই ব্যবহার হয়েছে। শিশুরা স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করছে দীর্ঘদিন ধরে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ঘর বরাদ্দের সময় একটি ‘স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি’ সংবলিত কাগজ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তৎকালীন ইউএনও ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ছিল। তারা সেটাকেই মালিকানা দলিল হিসেবে ভেবেছিলেন।

উচ্ছেদের পর ইউএনও আশ্বাস দিয়েছিলেন, যাদের কোনো বিকল্প নেই, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে তদন্ত সাপেক্ষে। তবে ছয় মাস পার হলেও পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ বা খোঁজখবর নেয়নি প্রশাসন—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এই ঘটনার পর সামাজিক ও মানবাধিকার মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে—জাতীয় সংসদে যখন ঘোষণা দেওয়া হয় “দেশে একজন মানুষও ভূমিহীন থাকবে না”, তখন খেজুরবাড়ির এই বাস্তবতা কতটা যুক্তিযুক্ত?

ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে তাদের পুনর্বাসন ও ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে মানবিক ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top