উজিরপুর প্রতিনিধি
কয়েকদিন আগেও যাকে ঘিরে ছিল ‘চোর’ কিংবা ‘মাদকাসক্তের’ অপবাদ। আজ তার বাড়িতেই ভিড় জমাচ্ছেন শত মানুষ। সহানুভূতি আর আর্থিক সহায়তা নিয়ে।
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের জীবনে এই আকস্মিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও।
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে বামরাইল এলাকায় চুরির অভিযোগে গ্রামবাসী অনিক সরদারকে বেঁধে মারধর করে। সেদিন সকালে তার নয় বছর বয়সী মেয়ে তুবা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাবার মুখে খাবার তুলে দেয়- এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা হাজির হন অনিকের বাড়িতে। তার এই উপস্থিতি পরিবারটির জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, তিনি এইচএসসি পাস। তাদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে আয়ের কোনো নির্দিষ্ট পথ নেই, অভাব-অনটনের মধ্যেই দিন কাটছে। সন্তানদের মানুষ করতে হলে স্বামীর কর্মসংস্থান কিংবা নিজের জন্য একটি চাকরি প্রয়োজন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, স্বামী অনিক এখন অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে ফিরতে চান।
অশ্রুসজল চোখে অনিক সরদার বলেন, আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আমাকে আয়-রোজগারের একটি পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।
দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একটি চাকরির আবেদন জানিয়ে তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বাবার প্রতি মেয়ের এই ভালোবাসা দেখেছে সারা বিশ্বের মানুষ। তিনি জানান, অনিক সরদার যদি সত্যিকার অর্থে আলোর পথে ফিরে আসেন, তাহলে সরকারিভাবে সহায়তা করে পরিবারটির পাশে দাঁড়াবেন প্রশাসন।




