রাষ্ট্রপতির সামনেই ‘মার খেলেন’ এনসিপি নেতা মাহিন

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের একটি ডকুমেন্টারির প্রতিবাদ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মাহিন দাবি করেন, ‘আজকের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারির প্রতিবাদ করেছি। রাষ্ট্রপতির সামনে আমাকে হামলা করা হয়েছে এবং আমি এটি নিয়ে গর্বিত।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ডকুমেন্টারিতে এক দফার ঘোষক বানানো হয়েছে তারেক রহমানকে। যে নাহিদ ইসলাম নিজের মৃত্যু পরোয়ানায় সাইন করে এক দফার ঘোষণা দিলেন, তিনি বিএনপির ইতিহাসে নেই। যেই আসিফ মাহমুদ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও লং মার্চ টু ঢাকা ঘোষণা করলেন, তিনি ইতিহাসে নেই। জুলাইয়ের পরে বেঁচে থাকাটাই আমাদের অপরাধ। গণঅভ্যুত্থানে আমার নেতা নাহিদ ইসলাম আর আসিফ মাহমুদ। তাদের পদসেবা করা আমার পরম সৌভাগ্য। যেখানে তারা নেই, সেখানে আমিও নেই।’

এদিকে ওই ডকুমেন্টারি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রতিবাদ জানান শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধারা। তাদের অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের বিভিন্ন দিক পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়নি। রাষ্ট্রপতির সামনেই এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে মঞ্চে আসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তিনি আন্দোলনের অন্যতম নেতা আক্তার হোসেনকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

আক্তার উপস্থিত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। তার বক্তব্যের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ডকুমেন্টারিতে থাকা অসম্পূর্ণতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চান। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, প্রতিবাদকারী শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্য থেকে একটি প্রতিনিধিদলকে সঙ্গে নিয়ে ডকুমেন্টারিটি পুনরায় পর্যালোচনা ও সংস্কার করা হবে।

আগামীর সময়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top