ফ্রান্সকে থামিয়ে ফাইনালে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক

কিলিয়ান এমবাপ্পে আর ওসমান দেম্বেলে-দুজনে কম চেষ্টা করলেন না। মাইকেল ওলিসেও রাখলেন না চেষ্টার কোনো ত্রুটি। কিন্তু তারপরও গোলের দেখা মিলল না। স্প্যানিশ রক্ষণ দেয়াল ভাঙতে পারলেন না কেউ। তাই তো বিশ্বমঞ্চের প্রথম সেমিফাইনালে শেষ হাসি হাসল স্পেন। মিকেল ওয়ারসাবাল আর পেদ্রো পোরোর গোলেই ২-০ গোলে জিতে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কাটল স্পেন। এ নিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে নাম লিখল স্প্যানিশরা। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্ব শিরোপা জেতে স্পেন।

টুর্নামেন্টের অন্যতম হট ফেভারিট ফ্রান্সকে তাই চোখের জলে বিদায় নিতে হলো শেষ চার থেকে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জয়ী ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফাইনালে খেলবে লামিনে ইয়ামালরা। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারিত ম্যাচটি গড়াবে আগামী ১৯ জুলাই রাত ১টায়।

বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে এক রোমাঞ্চকর দ্বৈরথের সাক্ষী হলো বিশ্বফুটবল। টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটিতে শক্তিশালী ফরাসিদের কৌশলগত লড়াইয়ে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল স্পেন। এ জয়ের মাধ্যমে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা ফরাসিদের টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুদলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। তবে ম্যাচের ২২ মিনিটে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল ফরাসি ডিফেন্সে ভীতি তৈরি করেন। নিজের ১৯তম জন্মদিনের ঠিক একদিন পর, ইয়ামাল ডি-বক্সের ভেতর একটি বিপজ্জনক বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিগনে তাকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পেনের নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল পেনাল্টি থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ওয়ারজাবালের পঞ্চম গোল।

এক গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করার পর, দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। তবে স্পেনের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং গোলরক্ষক উনাই সিমোনের অসাধারণ নৈপুণ্যের সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পেরা সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ ছিলেন। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ফরাসিদের ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে দেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মেইগনানকে পরাস্ত করে এক দুর্দান্ত ট্যাপ-ইনের সাহায্যে ব্যবধান ২-০ করেন পোরো। এর পর ফ্রান্স আক্রমণের ধার বাড়ালেও স্পেনের জমাট রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি।

পুরো টুর্নামেন্টে টানা ছয়টি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে আসা ফ্রান্সকে যেভাবে স্পেন তাদের নিখুঁত পাসিং ও ট্যাকটিকাল মাস্টারক্লাস দিয়ে রুখে দিয়েছে, তা এককথায় প্রশংসনীয়। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বজয়ের দোড়গোড়ায়। আগামী রোববার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেগা ফাইনালে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী আর্জেন্টিনা বা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ‘লা রোজা’রা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top