ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আজ কানসাস সিটিতে মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসি বাহিনী এদিন কেবল জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামেননি, তারা এক মহানায়কের প্রতি শেষ শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ও বোকা জুনিয়র্সের কিংবদন্তি আন্তোনিও উবালদো রাত্তিনের মৃত্যুতে আজ শোকের ছায়া নেমেছে। এই কিংবদন্তির প্রতি সম্মান জানাতে ফিফার বিশেষ অনুমতি নিয়ে শোকের কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছেন আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা।
আন্তোনিও উবালদো রাত্তিন ৮৯ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসে ‘বোকার আত্মা’ হিসেবে পরিচিত এই কিংবদন্তি ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। এক বিবৃতিতে এএফএ জানায়, “আর্জেন্টাইন ফুটবল এবং বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন রাত্তিন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

বোকা জুনিয়র্সের কিংবদন্তি আন্তোনিও উবালদো রাত্তিন।
বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ৩৮২ ম্যাচে ৪টি লিগ শিরোপা জয়ী রাত্তিন ছিলেন সত্তর ও আশির দশকের আর্জেন্টিনার ফুটবলের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। ১৯৫৬ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অভিষেক হওয়া এই মিডফিল্ডার মাঠের খেলায় নিজের উচ্চতা, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বগুণ দিয়ে আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠকে একসময় দুর্গ বানিয়ে ফেলেছিলেন।
রাত্তিনের নাম ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে স্রেফ তাঁর খেলা বা নেতৃত্বের কারণে নয়, বরং ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার জন্য। কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচে রেফারি যখন তাঁকে মাঠ থেকে বের করে দেন, তখন ভাষা না জানার অজুহাতে তিনি অনুবাদকের দাবি জানিয়েছিলেন। মাঠ ছাড়ার আগে ইংল্যান্ডের পতাকাবাহী কর্নার ফ্ল্যাগটি মুচড়ে ধরা এবং রানি এলিজাবেথের জন্য সংরক্ষিত লাল কার্পেটে বসে পড়ার সেই দৃশ্য ফুটবল বিশ্ব আজও মনে রেখেছে। ফুটবল ইতিহাসে রেফারির ‘কার্ড’ ব্যবহারের নিয়ম চালু হয়েছিল মূলত রাত্তিনের সেই ঘটনার পরেই।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবে বোকা জুনিয়র্সের দায়িত্ব পালন করা রাত্তিন পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি আর্জেন্টিনার জাতীয় কংগ্রেসে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আজ কানসাস সিটির বিশাল স্টেডিয়ামে যখন হাজার হাজার আর্জেন্টাইন ভক্ত নীল-সাদা জার্সি পরে গ্যালারি মাতাচ্ছেন, তখন প্রতিটি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের বাহুতে ঝুলে থাকা কালো আর্মব্যান্ড যেন রাত্তিনের সেই লড়াকু মানসিকতার কথাই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।




