আবাসন না দিয়েই হল ফি, সমালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘হল অ্যাটাচমেন্ট’ বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা ফি আদায়কে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির দাবি, সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হল ফি নেওয়া হলে তাদের আবাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যথায় যারা হলে থাকার সুযোগ পাবেন না, তাদের জন্য মাসিক আবাসন ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।

রোববার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জাকারিয়া ইসলাম বাবু।

পোস্টে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তিকৃত সব নবীন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘হল অ্যাটাচমেন্ট’ বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা ফি আদায় করছে। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি ছাত্র হলে নিয়মিত অ্যালটমেন্টের মাধ্যমে গড়ে মাত্র ১০০ জন শিক্ষার্থী আবাসনের সুযোগ পান। চারটি হলে মোট আসনসংখ্যা প্রায় ২ হাজার হলেও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া প্রায় ১ হাজার ৪০০ নবীন শিক্ষার্থীর শতভাগ আবাসন কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সে বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।

জাকারিয়া ইসলাম বাবু আরও বলেন, সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হল ফি আদায় করা হলে তাদের আবাসনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে যেসব শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাবেন না, তাদের জন্য আবাসন ব্যয় বাবদ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হবে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গণিত বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তির সময় ‘হল অ্যাটাচমেন্ট’ বাবদ ফি দিতে হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই জানতে পেরেছি, সবার জন্য হলে থাকার সুযোগ নেই। তাহলে যাদের সিটই নিশ্চিত নয়, তাদের কাছ থেকেও একইভাবে হল ফি নেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্নের বিষয়। আমরা চাই, প্রশাসন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে হয় শতভাগ আবাসনের নিশ্চয়তা দিক, নয়তো যারা হলে থাকার সুযোগ পাবে না তাদের জন্য বিকল্প আবাসন-সহায়তা বা ভর্তুকির ব্যবস্থা করুক।

এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট আরিফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়েও হল অ্যাটাচমেন্ট কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। যে ১ হাজার ১০০ টাকার কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে ৫০০ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হলেও দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হুমায়ুন কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও হল অ্যাটাচমেন্ট ফি নেওয়া হয়, তাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা নেওয়া হচ্ছে।’ তবে শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত না করেই কেন হল ফি নেওয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) স্যারের সঙ্গে কথা বলে পরে জানাব।’

এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top