শফিকুল ইসলাম, আগৈলঝাড়া(বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের বাগধা গ্ৰামে অগ্নিকাণ্ডে শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছে দরিদ্র বিধবা রাজিয়া বেগম।
বাগধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে চায়ের দোকান চালিয়ে তিন মেয়ে নিয়ে জীবনযাপন করে আসছিলেন মৃত আব্বাস তালুকদারের স্ত্রী রাজিয়া বেগম।
প্রতিদিনের মত শনিবার রাতেও দোকান বন্ধ করে বাড়ি যান তিনি, গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে দোকানের কাছে, এসেও শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে পারলেন না, চোখের সামনে মালামালসহ দোকান দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখে অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখা ছাড়া বিধবা রাজিয়া বেগমের তখন করার কিছুই ছিল না।
এলাকার লোকজন শত চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসার পূর্বেই দোকানে দুটি ফ্রিজ, গ্যাস সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক পাখা, টিভি ও মালামালসহ সম্পূর্ণ দোকানটি ভস্মীভূত হয়। এতে দোকান ও মালামালসহ প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ রাজিয়া।
স্বামী আব্বাস তালুকদার চার বছর পূর্বে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, বাগদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্বামী আব্বাস তালুকদারের রেখে যাওয়া শেষ সম্বল চায়ের দোকান চালিয়ে তিন মেয়ে নিয়ে কাটছিল রাজিয়া বেগমের জীবন। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
দরিদ্র বিধবা রাজিয়া বেগম জানান, স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল এই দোকান চালিয়ে এতদিন বেঁচে ছিলাম, রোজার ঈদে আত্মীয় স্বজনের ও এলাকার লোকজনের দেয়া যাকাতের টাকায় বড় আশা করে একটি নতুন ফ্রিজ কিনেছিলাম, চোখের সামনেই আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, আমি আমার সন্তানদের নিয়ে এখন কি ভাবে বাঁচবো।
বাগধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জুরান চন্দ্র শীল বলেন, আমাদের বিদ্যালযের সামনে রাজিয়ার দোকানে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে গভীর রাতে ছুটে এসেও দোকানটি রক্ষা করতে পারিনি। গতকাল মঙ্গলবার আমরা স্কুলের পাশে রাজিয়াকে বাঁশ, চেয়ার টেবিল দিয়ে একটি অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দিয়েছি, এলাকাবাসীর ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তার জন্য ভাল কিছু করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অয়ন সাহা বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া বেগমকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন, আগামীতে তাকে আরো সহযোগীতা করা হবে বলে জানিয়েছেন।




