ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতে নিরাপদ : অর্থমন্ত্রী

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সংসদে বাহাসে জড়িয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলের সদস্যরা। ব্যাংকটির শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বিরোধীদল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তারা। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বিএনপির হাতেই নিরাপদ।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যার্পন এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে’ আনা একটি নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তারা।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পরে পয়েন্ট অর্ব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে তদন্ত করে সংসদীয় কমিটির গঠনের প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা। তবে পয়েন্ট অব অর্ডার গ্রহণ করেননি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ করেছেন যে— ‘ইসলামি ব্যাংক থেকে যে টাকাগুলো বের হয়েছে তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী জড়িত নয়। এই দাবিটা সালমান এফ রহমান, এস আলমও করতে পারেন। কারণ তারা নিজের নামে কেউ টাকা নেননি।’

তার ভাষ্য, ইসলামী ব্যংকের চেয়ারম্যানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিষ্কারভাবে বলেছে তদন্তে কিছুই পাওয়া যায়নি। একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে কোনও ব্যাংকের গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করে চলে যায় এটার কোনও নজির দুনিয়াতে নেই। গ্রাহক দেখে তার ইন্টারেস্ট ঠিকমতো পাচ্ছে কি না, সে টাকাটা ফেরত পাবে কি না। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ইসলামিক ব্যাংক যখন টেকওভার হয় তখনও গ্রাহকেরা টাকা সরিয়ে নেননি।

ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পেছনে কিছু ব্যাপার আছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘ব্যাংকের ভেতরে বাইরে-উগ্র মিছিল এবং কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। যারা টাকা তুলে নিচ্ছেন তারা চেয়ারম্যানের কারণে নয়, মনে হয় তারা ইসলামী ব্যাংককে বিপদে ফেলতে চাইছেন। এর পেছনে কারও হাত আছে। তারা ইসলামী ব্যাংককে ফেইল করে রাজনৈতিক ফায়দা উসুল করতে চায়।’

বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘এখানে একটা যোগসূত্র আছে। যারা টাকা নিয়ে যাচ্ছে, যারা ব্যাংকের ভেতরে–বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যারা প্রস্তাবটি এনেছেন তাদের মধ্যে একটা যোগসূত্র আছে।’ বিরোধী দলের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি জায়গায় এ ধরনের ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে রাজনৈতিকভাবে আপনারা খুব বেশি লাভবান হবেন না।’

এর আগে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছিল দাবি করে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘জোর-জবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে এই শেয়ারগুলো ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, অবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তাদের কাছে আবার শেয়ারগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’

তিনি বলছিলেন, ‘এটা সকলের ব্যাংক। শুধু জামায়াতের মানুষের ব্যাংক নয়, বিএনপির বহু মানুষ আছেন, অন্য দলের মানুষ আছেন, অন্য ধর্মের মানুষ আছেন। ৫ অগাস্টের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছিল। সেই সময়ে ব্যাংকটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এনে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হয়েছে।’ তার দাবি, একটি বিধ্বস্ত ব্যাংকের মাথার ওপর এমন একজনকে বসানো হয়েছে, যিনি অতীতে নানা বিতর্কের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে শুধু একটি ব্যাংক নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হলে সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো বার্তা বয়ে আনবে না। বক্তব্যের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে দেওয়া বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারধারীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘শেয়ারহোল্ডাররা কিভাবে খরিদ করেছে- এটা অন্য বিতর্ক। সেটা দুদকের তদন্ত হতে পারে, মামলা হতে পারে। কিন্তু শেয়ারহোল্ডার তো শেয়ারহোল্ডারই।’

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ডাকাতি করে নেওয়া হয়েছে—বিরোধী দলের এমন অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইবনে সিনার ২ শতাংশ শেয়ার ছিল, ব্লক মার্কেটে তিন গুণ দামে তারা শেয়ার বিক্রি করেছে। বর্তমান শেয়ার হোল্ডিং স্ট্যাটাস অনুসারে এখানে ৮১ শতাংশ বোধ হয় একটা গ্রুপের। বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ার হোল্ডারদের কাছে এই মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি উল্লেখ করেন, আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, ‘আগের মতো করে ইসলামী ব্যাংকে ইসলামী কায়দায় সৎ লোকদের দিয়েই পরিচালিত করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। এস আলমের লোককে বসানোর জন্য করা চেষ্টা হচ্ছে। কোনো এস আলমের লোককে ইসলামী ব্যাংক আশ্রয় দিতে পারবে না।

অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নেসা সিদ্দীকা ও মারদিয়া মমতাজ আলোচনায় অংশ নেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top