বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
রিজিক শুধু খাবার-পানীয় নয়; বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষাসহ জীবনে টিকে থাকার অন্যান্য সহায়ক মাধ্যম ও সুবিধাগুলোও রিজিক। দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর দেওয়া সব ধরনের জীবন-উপকরণ ও নেয়ামতকে রিজিক বলা হয়। মানুষমাত্রই চান রিজিকের বৃদ্ধি ঘটুক এবং আয়-উপার্জনে বরকত আসুক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অনেক এমন আমলের বর্ণনা এসেছে, যার মাধ্যমে রিজিকে সমৃদ্ধি আসতে পারে। এখানে কয়েকটি আমল উল্লেখ করা হলো—
তাকওয়া অবলম্বন করা: জীবনে তাকওয়া বা আল্লাহর ভয় অবলম্বনের মাধ্যমে রিজিকে বরকত আসে। একইসঙ্গে আল্লাহর ওপর অটল আস্থা, ভরসা এবং রিজিক অনুসন্ধানে তার সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমে রিজিক বৃদ্ধি হতে পারে। কারণ, যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। (সুরা তালাক, আয়াত: ২-৩)
তওবা ও ইসতেগফার করা: অধিক পরিমাণে ইসতেগফার এবং বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও রিজিক বাড়ে। আল্লাহ কোরআনে নুহ (আ.)-এর ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ‘আর বলেছি, তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। (তাঁর কাছে ক্ষমা চাইলে) তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, আর তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন, দেবেন নদী-নালা।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০-১২)
আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা: আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের হক আদায়ের মাধ্যমেও রিজিক বাড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেওয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৮৫)
মহানবীর (সা.) দরুদ পড়া: হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠেও রিজিকে প্রশস্ততা আসে। হাদিসে আছে, এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তার দোয়ার পুরোটাজুড়ে দরুদ পড়ার বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, ‘তা তোমার ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (সুনানে তিরমিজ, হাদিস: ২৬৪৫)
দান-সদকা: আল্লাহর রাস্তায় কেউ ব্যয় বা দান করলে তা বিফলে যায় না। সে সম্পদ ফুরায়ও না, বরং তা বাড়ে। কোরআনে আছে, ‘নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৯)
আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা: আল্লাহর দেওয়া রিজিক ও নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে রিজিক বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ বলেন, ‘যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আজাব বড় কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৭)
বিয়ে করা: বিয়ের মাধ্যমে রিজিকে বরকত আসে। অভাব দূর হয়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩২)
গুনাহ ছেড়ে দেওয়া: গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, আল্লাহর দীনের ওপর অটল থাকা এবং নেকির কাজ করার মাধ্যমে রিজিকে বাড়ে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি প্রকৃত সফল যে ইসলাম গ্রহণ করেছে আর তাকে জীবন ধারণে (অভাবও নয়, বিলাসও নয়) পর্যাপ্ত পরিমাণ রিজিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তুষ্টও করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪৭৩)




