(ছবি : অভিযুক্ত যুবদল নেতা তাউয়াব সরদার ও তার আহত ছোট ভাই আউয়াল সরদার )
বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
পটুয়াখালীর মহিপুরে কোরবানির দাওয়াত দিতে গিয়ে আপন ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা তাউয়াব সরদারের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত ছোট ভাই আউয়াল সরদার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১টার দিকে মহিপুর সদর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে অভিযুক্ত যুবদল নেতার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত তাউয়াব সরদার স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিকভাবে কোরবানির দাওয়াত পৌঁছে দিতে বড় ভাই খোকন সরদারের পক্ষ থেকে আউয়াল সরদারকে তাউয়াব সরদারের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পর দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে তাউয়াব সরদার ক্ষিপ্ত হয়ে আউয়ালের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। মারধর ও ঘুষিতে কারণে আউয়াল সরদারের নাক ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী আউয়াল সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি শুধু দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাউয়াব সরদার আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে। একপর্যায়ে আমার নাকে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তার নানা আচরণে অতিষ্ঠ। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তাদের বড় ভাই খোকন সরদার বলেন, ‘পারিবারিক দাওয়াত দিতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হতে হবে, তা ভাবিনি। হঠাৎ করেই সে মারমুখি আচরণ শুরু করে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাউয়াব সরদার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সালিশ বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দলীয় নেতার এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় যুবদল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তাউয়াব সরদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মহিপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্যাদা বলেন, ‘কেউ দলের পরিচয় ব্যবহার করে অন্যায় করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ডেইলি ক্যাম্পাস




