বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
চারটি সুপারিগাছের চারা খাওয়ার অভিযোগে দুটি ছাগলের পা বেঁধে খালে ফেলে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে নেছারাবাদ থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে । অভিযুক্তের বিচারের দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মৈশানি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ছাগল দুটির মালিক একই গ্রামের দরিদ্র কৃষক হালিম হাওলাদার। এ ঘটনায় তিনি রোববার রাতে মৃত ছাগলগুলো সঙ্গে নিয়ে এসে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কৃষক হালিম হাওলাদার অভিযোগ করেন, সকালে তিনি তিনটি ছাগল ঘরে রেখে খাবার সংগ্রহে বের হন। দুপুরে বাড়ি ফিরে ছাগলগুলো দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরে বিকেলে সুনীল হালদারের নার্সারির পাশের খালে ছাগলগুলো চার পা বাঁধা অবস্থায় ভাসতে দেখেন। সেগুলো উদ্ধার করে দেখেন দুটি ছাগল মারা গেছে এবং অপরটি মৃতপ্রায়।
হালিমের দাবি, তার তিনটি ছাগল সুনীলের চারটি সুপারির চারা খেয়েছিল। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে সুনীল ছাগলগুলোর পা বেঁধে খালে ফেলে দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেলিম বলেন, আমি গরিব মানুষ। তিনটি ছাগলই আমার সম্বল। চারটি সুপারির চারা খাওয়ার অপরাধে আমার ছাগলগুলো এভাবে বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে সুনীলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ছাগল সুপারির চারা খেয়েছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোর অবস্থাও ছাগলের মতো হবে বলে হুমকি দেন।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. শাহাদাৎ বলেন, হালিম খুবই দরিদ্র মানুষ। তার তিনটি ছাগল। শুনেছি, ছাগলগুলো সুনীলের চারটি সুপারির চারা খেয়েছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাগলগুলোর পা বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল গাজীও ঘটনার সত্যতা তুলে ধরে বলেন, হালিম হাওলাদার অত্যন্ত গরিব মানুষ। সুপারির চারা নষ্ট করার অভিযোগে ছাগলগুলোর পা বেঁধে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুনীল হালদার। তিনি বলেন, ‘ছাগলগুলো আমার সুপারির চারা খেয়েছে। আমি ছাগল তাড়িয়ে দিয়েছি, মারিনি।’
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশ




