বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, মূল পয়েন্টে যদি বলি সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার শারীরিক খোঁজখবর নিয়েছেন। উনি এটুকু স্মরণ করেছেন যে আপনাকে যা করা হয়েছিল সেটা আমার সঙ্গে হয়েছে, একাত্মতাবোধ করেছেন তিনি। আপনি জানেন যে ওয়ান-ইলেভে সময় ওনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটা তিনি স্মরণ করছেন। ওনার নিজের মন থেকে হয়তো এটা এসেছে।
এ ছাড়া সামনের রাজনীতির ক্ষেত্রে যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশটা এগিয়ে যেতে পারে সে বিষয়ে তিনি সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার আলাপের টক শোতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আনিস আলমগীর বলেন, ৫ আগস্টের আগে আমি তারেক রহমানের ভক্ত ছিলাম না। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তার যে বক্তৃতার স্টাইল, যা থেকে মানুষ আশার আলো দেখেছিলেন।
আগের বক্তৃতায় তার নেগেটিভ ইমেজ তৈরি হয়েছিল; কিন্তু ৫ আগস্টের পরের বক্তব্যে তার ভক্ত বেড়েছে। অনেক সমালোচনা করেছি তারেক রহমানকে। আমি তাকে বলেছি, আমি কিন্তু আপনার সমালোচনা এখনো করব। আমি আপনার প্রশংসা যেমন করব, তেমনি সমালোচনাও করব।
ড. ইউনূসকে বাটপাড় বলে অবিহিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম বাটপাড়িটা আমার সঙ্গেই হয়েছে। সরকার বলেছিল, প্রাণ খুলে সমালোচনা করেন; কিন্তু সমালোচনা করার পর মামলা ছাড়া আমাকে জেলে নিয়ে যায়। এ ছাড়া জেলে নিয়ে ২৪ ঘণ্টা পরে মামলা দিয়ে জেলে দেয় এবং সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড নেয়। বাটপাড়ির জন্য এর থেকে কী বড় প্রমাণ আমাকে আরো দিতে হবে?
আনিস আলমগীর বলেন, পিয়ার ফার্ম তো টাকা নিয়ে কাজ করে এবং পৃথিবীতে এমন কোনো পিয়ার ফার্ম আছে যে টাকা ছাড়া কাজ করে, এটাই ছিল তাদের সঙ্গে আমার বিতর্ক। ৩২ নাম্বার ভাঙা নিয়ে ড. ইউনূসকে সমালোচনা করেছিলাম।
আমি বলেছিলাম, উনি যেই সংস্কৃতিটা চালু করে দিয়েছেন, উনি যখন ক্ষমতায় থাকবেন না, তখন ওনার ওপর এপ্লাই হবে। ওনার বাড়িঘরে এভাবে হামলা হবে।
তিনি বলেন, ওই সময় দুজন ইউটিউবার, যারা অনবরত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছিল নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিস থেকে। তাদের সমালোচনা করেছিলাম এবং তারা যে নানা সময় উসকানিমূলক বক্তব্যগুলো দিচ্ছিল বাংলাদেশে কেউ তাদের সমালোচনা করে নাই, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, শুধু মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে গিয়ে এর প্রতিবাদ করেছিলাম, এটা খুব লেগেছিল। এরপর সরকার ও এনসিপির সম্মতিতে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কারাগার থেকে মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্ত বাতাস অবশ্যই ভালো লাগছে বিশেষ করে ঈদের আগে মুক্তি এটা আরো বাড়তি আনন্দ দিয়েছে। আমি তো চিন্তায় ছিলাম যে জেলের মধ্যে কিভাবে ঈদ করব? আমার রুমমেট ছিল যারা দুইবার এই ঈদ হারিয়েছে। তারা জেলে করেছে। আমি অন্তত সৌভাগ্যবানদের একজন যে ঈদটা বাইরে করতে পেরেছি এবং আমার উকিলকে আমি বলেছিলাম, যেভাবে পারো বাইরে ঈদ করার ব্যবস্থা করো। কারণ আমি ঈদের আগে কিছু আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবদের আমি গিফট দিয়ে থাকি। ওরা যাতে এই বছর এটা থেকে বঞ্চিত না হয়, এ জন্য সবাইকে পাঞ্জাবি ও শাড়ি দিয়েছি।
সরকারের ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করেছি কম আর বেশি। এখন অনেকে প্রশ্ন করে যে আপনি কি শেখ হাসিনার আমলে করেছেন কি না? করেছি। তখন এত ব্যস্ততা ছিল, আমার চোখে পড়েনি হয়তো। কিন্তু আমি তার ভালো ভালো কাজের প্রশংসা করেছি। বিশেষ করে শেখ হাসিনার উদ্দেশ্য করে বলেছিলাম, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, কিন্তু শেখ হাসিনা একটা কাজ করেছেন- বাংলাদেশের জন্য আমাদের ভৌগোলিক যেই ম্যাপ, সেটা ঠিক করে দিয়ে গেছেন। আবার রামপাল বিদ্যুৎ যখন হচ্ছিল, তখন সমালোচনা করেছি।
জুলাই-আগস্টের পক্ষে ছিলেন কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবু সাঈদ মারা গেল আমি সঙ্গে সঙ্গে স্ট্যাটাস দিয়ে নিন্দা জানিয়েছি। আমার আগে কোনো সাংবাদিক দেয়নি, চ্যালেঞ্জ করছি। তার পরে আমাকে বলা হলো লাল বাঁদর , তখন আমি লাল বাঁদর হয়ে গেলাম। আমরা রাজপথে যাব, কিন্তু আমি আমার দেশের সম্পদ নষ্ট করতে পারি না।