যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখ লাখ মানুষের সমাগম

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তৃতীয় দফায় ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল বলে আয়োজকদের দাবি। অভিবাসন নীতি, সরকারি কর্মী ছাঁটাইসহ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের রাজপথে নেমে আসে মানুষ। নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর শনিবারের (২৮ মার্চ) এই বৃহত্তর আন্দোলনের আয়োজক সংগঠক ইনডিভিজিবল। দেশটিতে তিন হাজারেরও বেশি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 

সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন আয়োজকদের হিসাবে, ‘নো কিংস’ আন্দোলনের প্রথম দুই দফায় ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল। জুনে অনুষ্ঠিত প্রথম কর্মসূচিতে ৫০ লাখের বেশি এবং অক্টোবরে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নেন। শনিবার তারা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সর্বশেষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে। তাদের অনুমান, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ৩০০টির বেশি অনুষ্ঠানে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পলে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের প্রধান সমাবেশে জনতার ঢল নেমেছিল। মিনেসোটা ক্যাপিটলের লন ও আশপাশের সড়কজুড়ে হাজার হাজার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান। অনেককে উল্টো করে মার্কিন পতাকা ধরতে দেখা যায়, যা ঐতিহাসিকভাবে সংকট ও প্রতিবাদের প্রতীক।

 

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন। তিনি ‘স্ট্রিটস অব মিনিয়াপোলিস’ গানটি পরিবেশন করেন, যা ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে নিহত রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির স্মরণে লেখা। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে শীতকালজুড়ে রাস্তায় নামা মিনেসোটার প্রতিবাদকারীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

 

গান শুরুর আগে স্প্রিংস্টিন নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করে বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ সারা দেশে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আপনাদের শক্তি ও দৃঢ়তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় এটাই আমেরিকা। এই দমনমূলক বাস্তবতা মেনে নেওয়া হবে না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ সবখানেই ‘নো কিংস’ আন্দোলনের সমাবেশ দেখা গেছে। প্রায় ৮৫ লাখ মানুষের শহর নিউইয়র্ক সিটি থেকে শুরু করে পূর্ব আইডাহোর ছোট শহর ড্রিগস (জনসংখ্যা ২ হাজারেরও কম) সবখানেই মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আইডাহোতেই ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন।

ফিলাডেলফিয়াতে ‘নো কিংস’ র‍্যালিতে হাজার হাজার মানুষ শহরের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হওয়ায় রাস্তাঘাট কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। শিকাগোতেও বড় সমাবেশ হয়, যেখানে ইনডিভিসিবল শিকাগো এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন অব ইলিনয়সহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। এছাড়া টেক্সাস এবং ডেট্রয়েটেও সমাবেশ হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব মিশিগানজুড়ে দিনভর অন্তত ৪০টি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়েছে। বিশ্বের এক ডজনেরও বেশি দেশে ‘নো কিংস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান আয়োজক সংগঠন ইনডিভিসিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক এজরা লেভিন। তিনি বলেন, যেসব দেশে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র রয়েছে, সেখানকার অংশগ্রহণকারীরা এই আন্দোলনকে ‘স্বৈরাচার নয়’ বার্তার সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

 

ইতালির রাজধানী রোমেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সম্প্রতি মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার বিচারব্যবস্থা পুনর্গঠনের জন্য একটি গণভোটের আয়োজন করে, যা আদালতের স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

 

বিক্ষোভকারীরা একই সঙ্গে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন। বিভিন্ন ব্যানারে তারা ‘যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব’ গড়ার আহ্বান জানান।

 

তবে হোয়াইট হাউস এই দেশব্যাপী বিক্ষোভকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে এসব সমাবেশকে ‘বামপন্থি অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের ফসল’ বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, এই তথাকথিত ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ নিয়ে শুধু তারাই মাথা ঘামায়, যাদের এগুলো কভার করার জন্য টাকা দেওয়া হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top