মসজিদ ভাঙচুর : যুবক কারাগারে

মো.হারুন অর রশিদ মিঠু, গাইবান্ধা
গাইবান্ধায়  মসজিদ ভাঙচুর ও মুসল্লিদের মারধরের চেষ্টার অভিযোগে জাইদুল ইসলাম (৩৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, ওই যুবকের বিরুদ্ধে মসজিদ ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত এবং অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার বিকেলে পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মনোহরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত জাইদুলের বাড়ি পশ্চিম মনোহরপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মকবুল শেখের ছেলে।
ওই এই খবর এলাকায় জানাজানি হলে জনগণ উত্তেজিত হয়ে ওই যুবকের ঘরবাড়িতে আগুন দেয়। এতে একটি টিনশেড ঘর পুড়ে যায়। পরে ফায়াস সার্ভিসের গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে জাইদুল ইসলামের বাড়ির পাশে এক প্রতিবেশির  বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজনা হচ্ছিল। পরে সমাজের লোকজন উচ্চশব্দে গান বাজাতে নিষেধ করে। পরবর্তীতে গান বাজানো বন্ধ করা হয়। এই ঘটনার জের ধরে জাইদুল শনিবার বিকেলে মসজিদের এসে ভাঙচুর করার চেষ্টা করে। এসময় মসজিদের একটি জানালার গ্লাস ভেঙে দেয় এবং সেখানে উপস্থিত কয়েকজন মুসল্লির ওপর হামলা করে তাদেরকে মারধর করেন।
এসময় মুসল্লিরা মসজিদের মাইকে ভাংচুরের বিষয়টি প্রচার করে। মাইকে ঘোষণা শুনে গ্রামের লোকজন এসে মসজিদ চত্বরে জড়ো হয়ে জাইদুলকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওইদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় জনতা জাইদুলকে  পলাশবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এই ঘটনায় জাইদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মসজিদ ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত এবং অস্ত্র আইনে এ মামলা দায়ের হয়।
শনিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে জাইদুল ইসলামের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
এলাকাবাসি জানায়, জাইদুল ইসলাম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সে ঘটনার দিন নেশাগ্রস্থ অবস্থায় একটি ছুরি নিয়ে মসজিদ চত্বরে আসে।  ছুরি দিয়ে মসজিদের জানালার গ্রাস ভেঙে দেয়। পরে মসজিদের সভাপতি সিরাজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে আঘাত করবে বলে তার বাড়িতে যায়। এসময় সিরাজুল নিজেকে রক্ষায় পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
এসব বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন ধরেননি। তবে মসজিদের মোয়াজ্জিম মোনারুল ইসলাম বলেন, জাইদুল ইসলাম শনিবার আসরের নামাজের পর মসজিদে এসে হামলা করে। পরে একটি জানালার গ্লাস ভাঙচুর করতে থাকে। তার কাছে ধারালো ছুরি থাকায় কেউ তাকে থামাতে পারেনি। পরে সবাই একজোট হয়ে তাকে আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top