বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কলেজের প্রধান ফটকের সামনে থেমে থেমে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ‘ছাত্রদলের হামলা’ ও একজনের পায়ের গোড়ালি কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। মিছিলটি কলেজের মূল ফটকের দিকে অগ্রসর হলে তারা ‘গুপ্ত বলিস কাদের কে, তুই ছিলি লন্ডনে’, ‘রগ কাটে কোন দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’, ‘হাবিবের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিবিরের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কলেজের মূল ফটকের দিকে গেলে ছাত্রদল অপরদিক থেকে হামলা করে। এরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলির শব্দও শোনা যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ সময় কলেজ গেটের সামনে থাকা একটি ছাউনি ভাঙচুর করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ছাত্রদলের কলেজ শাখার সহসভাপতি ইমরান হোসেন খান বলেন, কলেজে তাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ১০০-১৫০ জন শিবিরকর্মী বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হামলা চালান। এ সময় তাদের মারধর করেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি ছাত্রদলের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদ হাসান বলেন, চট্রগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে শিবিরের ওপর হামলা ও একজনের পায়ের রগ কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে ডাকা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রসহ হামলা চালান। এ সময় কয়েকটি গুলিও করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। টোকাই ভাড়া করে এনে ককটেলও বিস্ফোরণ করেছেন তারা। এ সময় আমরা আত্মরক্ষার জন্য পাল্টা আক্রমণ করি।
ছাত্রদলের কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা নেই।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিবিরের একটি মিছিল ছিল। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




