চরফ্যাশনে ডিলারের বিরুদ্ধে গরিবের চাল বিক্রির অভিযোগ

এম লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা) থেকে

কেজি প্রতি ১৫ টাকা দরের বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে চরফ্যাশন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের ছিদ্দিক হাওলাদার বাজারের ডিলার মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার রাত দশটার দিকে আবু বকরপুর ইউনিয়নের রইদেরহাট বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ করে বিক্রি করায় ডিলারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ৫টি ওয়ার্ডে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। তবে বাকি ৩টি ওয়ার্ডে ৩০ অক্টোবর বুধবার চাল বিতরণকালে প্রায় ৪৮ জন সুবিধাভোগী চাল নিতে এলে ডিলার মহিউদ্দিন তাদের চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। চাল না পেয়ে ক্ষোভে প্রকাশ করেন সুবিধাভোগীরা। এরপর মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে চাল বিক্রির অভিযোগ এনে বুধবার রাতে বিক্ষোভ করেন তারা।

স্থানীয় সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, ডিলার মহিউদ্দিনসহ তার লোকজন প্রায় ২০০ বস্তা চাল কার্ডধারি বা স্লিপ যাদের রয়েছে তাদের কাছে বিক্রি না করে অধিক মুনাফায় বাইরে বিক্রি করে দিয়েছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ওই ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের চাপরাশি বাড়ি ও রাঢি বাড়ির তিনটি ঘর থেকে ১২ বস্তা চাল উদ্ধার করেন এলাকাবাসী ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আবুবকরপুর ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার মহিউদ্দিনকে ৬৩৯ নামের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ৩৮ হাজার ৩৪০ কেজি চালের বরাদ্দ দেয়া হয়।

সুবিধাভোগী রিনা বেগম জানান, তার নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর একটি কার্ড রয়েছে। বিগত বছরগুলোতেও সে চাল পেয়েছিল। গত ৩০ আক্টোবর রইদেরহাট বাজারে ডিলার এসএম মহিউদ্দিনের কাছ থেকে চাল আনতে গেলে সে চাল না পেয়ে খালি হাতে বাসায ফিরে আসে। এসময় ডিলার মহিউদ্দিনের বিচারের দাবি জানান তিনি।

আবুবকরপুর জামায়াতে ইসলামী সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জানান, আবুবকরপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালের ডিলার মহিউদ্দিন প্রায় ২০০ বস্তা চাল আত্মসাৎ করে বিক্রি করে ফেলেছে। এলাকাবাসীসহ ইউনিয়ন দফাদার আবুবকরপুর ৭ নং ওয়ার্ডের রাঢি বাড়ির তিনটি ঘর থেকে ১২ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযোগ সম্পর্কে ডিলার মহিউদ্দিনের কাছ থেকে জানতে চাইলে, তিন চাল বিক্রির বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আমরা এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খুব দ্রুত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নওরিন হক জানান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চাল বিক্রির বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হলে ডিলারের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আবুবকরপুর সিদ্দিক হাওলাদার বাজারের প্রাথমিকভাবে ওই এলাকার জামায়াত নেতা মো.জামাল উদ্দিনকে ডিলার নিয়োগ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  তাকে চিঠি দেন। অদৃশ্য কারণে তাকে পরিবর্তন করে যুবদলের নেতা মহিউদ্দিনকে ডিলার নিয়োগ করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top