বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। লেবাননে ইসরাইলি নৌ কমান্ডোদের অভিযানে এক হিজবুল্লাহ যোদ্ধা আটক হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোম্বার মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পর তিনি এই হুশিয়ারি দিলেন।
এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বলেছেন, আমাদের শত্রু- যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী সরকার- উভয়ের জানা উচিত যে তারা অবশ্যই দাঁতভাঙা জবাব পাবে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের সমর্থিত প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর সাফল্যের প্রসঙ্গে তিনি একথা বলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন ইরান ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সাথে দুই দফায় ইসরাইলের সাথে হামলা-পাল্টা হামলাও হয়েছে। তবে আবার ইরান ইসরাইলে হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে খবর বেড়িয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নতুন করে ইসরাইলে হামলার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন কমান্ডারদের।
এদিকে, ‘অস্তিত্ব সংকটে’ পড়লে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিলের প্রধান কামাল খারাজি। তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। তবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জারি করা ফতোয়ার কারণে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত আছে।
লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। খারাজি এই অঞ্চলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান তুলে ধরে যেকোনো উত্তেজনার জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এড়ানোর ইচ্ছার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।
দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং অস্তিত্বগত হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে পারমাণবিক নীতির পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসরাইলকে লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে অপারেশন ট্রু প্রমিস-২ এর মাধ্যমে প্রতিরোধের ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে ইরান। আগামীতে কী হবে তা এখন ইসরাইলের ওপর নির্ভর করছে। তারা যদি শত্রুতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তবে ইরান যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাবে।




