মহান বিজয় দিবস আজ

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। এক অবিস্মরণীয় বীরত্বগাথা, গৌরবময় দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূখণ্ড গড়ার প্রত্যয়ে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে কাক্সিক্ষত বিজয় অর্জন করে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের।

সবার মধ্যে এক বুক আশা ছিল সব লাঞ্ছনা, শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটবে অচিরেই। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের ওপর জেঁকে বসেছে স্বৈরশাসকরা। ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করে নেয়া হয়। অর্থনৈতিক মুক্তি রয়ে যায় সুদূরপরাহত। অধিকার আদায়ের জন্য কথা বলতে গিয়েও কখনো কখনো এ দেশের মানুষকে গুম-খুনের শিকার হতে হয়েছে।

তবে এবারের বিজয় দিবস যেন অন্য এক বিজয়গাথা নিয়ে হাজির। দীর্ঘ দেড় দশক পর যেন এ দেশের মানুষ ফের প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ পেতে চলেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ এ দেশকে একটি কারাগারে পরিণত করে ফেলেছিল। প্রতিবেশী ভারতের গভীর ষড়যন্ত্রে দেশের স্বাধীনতাও হুমকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল। রক্তস্নাত ’৭১-এর মূল চেতনার বিভ্রাট ঘটিয়ে বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করতে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছে দেশবাসী। গুম-খুনে আর নির্যাতনের শিকার মানুষের কান্নায় আকাশ কেবল ভারীই হয়েছে দিনের পর দিন। ২০২৪-এ দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ মানুষ ফের জেগে ওঠে।

দীর্ঘ ১৬ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গত জুলাই মাসে আরেকবার রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্র-জনতা। স্বৈরশাসক তার গদি রক্ষায় ছাত্র-জনতার ওপর লেলিয়ে দেয় পোষ্য দলীয় ও সরকারি সব বাহিনীকে। তাদের বুলেটের তপ্ত আঘাতে বুকের তাজা রক্ত রাজপথে গড়িয়ে পড়েছে হাজার হাজার তরুণ ছাত্র-জনতার। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। বিজয় ছিনিয়ে নিয়েই ঘরে ফিরেছে মুক্তিকামী কোটি মানুষ। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে পতন ঘটে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের। সে দিন বাকস্বাধীনতা হরণের অভিশাপ থেকে বেরিয়ে এসে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা আরেকবার বুক ভরে শ্বাস গ্রহণ করে জানান দেয়- এ দেশের মানুষকে বেশিদিন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রাখা যায় না। নতুন জীবন পাওয়া কোটি কোটি মানুষের এখন একটাই চাওয়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা আর অর্থনৈতিক মুক্তি। সত্যিকারের বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ার ব্রত হোক এবারের মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাও বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top