ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালের খামারিরা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

সামনেই ঈদ-উল-আজহা। বড় এই উৎসবের আগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশাল বিভাগের হাজার হাজার খামারি। জ্বালানী তেল ও গো খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার কোরবানির পশুর দামে প্রভাব পড়লেও ক্রেতাদের সাড়া মেলায় খুশি তারা।

বরিশালের খামারগুলোতে বছর জুড়ে বিভিন্ন জাতের গরু লালন পালন করলেও বেশি দামে বিক্রির টার্গেট থাকে কোরবানিতে। দেশি গরুর পাশাপাশি এবার দেখা মিলছে সাইওয়াল, দেশাল, আরসিসি, নেপাল, ফিজিয়ান, অস্টেলিয়ান ,পাকিস্তানি সাইওয়াল গরুর। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর দামে।

খামারিরা জানান, কোরবানির পশু প্রতি দাম বাড়ার পাশাপাশি খামারে লাইভওয়েট মেশিনে বিক্রি করা পশুর দামও কেজি প্রতি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতারাও বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। ভারতীয় গরু না আসলে কোরবানির হাট স্থানীয় গরুর দখলে থাকবে বলেও আশা খামারিদের।

রবিন নামের এক ক্রেতা জানান, ‘ছোট বেলা থেকেই হাটে গিয়ে গরু কিনেছি। তবে এখন হাটে গেলে সুস্থ গরু আদৌ পাবো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে খামারে গরু কিনতে আসলাম।’

আসিফ নামে আরেক ক্রেতা জানান, ‘খামারে কোন ধরনের ঝামেলা নেই। খাজনা নিয়ে তর্ক নেই। তাই আধুনিক যুগে খামারকেই মানুষ বেছে নিচ্ছে। তবে এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি লাইভ ওয়েটে। তারপরও সুস্থ গরু পাচ্ছি এটাই শান্তির।’

বরিশাল এমইপি এগ্রো এর ইনচার্জ রাফিউর রহমান অমি বলেন, ‘কোরবানিকে কেন্দ্র করে আমরা ২৫০ টির বেশি গরু প্রস্তুত করেছি। ২০০ কেজির নীচের গরুর লাইভ ওয়েটে কেজি প্রতি নির্ধারন করা হয়েছে ৪৯৫ টাকা। ২০০ খেকে ৩০০ কেজি পর্যন্ট লাইভ ওয়েটে কেজি প্রতি নির্ধারন করা হয়েছে ৫৩০ টাকা। আর ৩০০ থেকে ৪০০ কেজি পর্যন্ত লাইভ ওয়েটে কেজি প্রতি নির্ধারন করা হয়েছে ৫৪০। আর ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত লাইভ ওয়েটে কেজি প্রতি নির্ধারন করা হয়েছে ৫৬০ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘অলরেডি আমাদের অর্ধেকের বেশি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। গো খাদ্যের দাম ও পরিবহন খরচা বাড়ার ফলে দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। সব মিলিয়ে দাম বাড়লেও সাড়া পাচ্ছি। মানুষ হাটের থেকে এগ্রো তে আস্থা পাচ্ছে। কারন এগ্রোতে কোন ধরনের রোগে আক্রান্ত গরু থাকেনা। ভারতীয় গরু না আসলে কোরবানির হাট থেকে শুরু করে খামার সব জায়গায় স্থানীয় গরুর দখলে থাকবে।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, এ বছর বিভাগের ৬ জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার ১৫ জন খামারি কোরবানির জন্য পশু পালন করেছেন ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫ টি। কোরবানীর পশুর চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থেকে যাবে ৬৭ হাজার ৬৬২টি পশু। এছাড়া এ বছর ৬টি জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৪০১ টি হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে। আর ১১৯ টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম হাটগুলোতে কোরবানি যোগ্য পশুর সুস্থতা পরীক্ষা করবে।

বরিশাল বিভাগীয় প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাহফুজুল হক বলেন, ‘গরু পরিবহনে নৌ ও সড়ক পথে এবং হাটে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে।কোন খামারের পশু খুরা ও লাম্পি রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তাই কোরবানীর পশুতে সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

এশিয়া পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top