খুন হয়েছে স্বামী, চার শিশু সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন স্ত্রীর

উজিরপুর প্রতিনিধি

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলা গ্রামে স্বামী খুন হওয়ার পরে চার নিস্পাপ সন্তানকে নিয়ে অসহায় স্ত্রীর মানবেতর জীবনযাপন করছে। যেন দেখার কেউ নেই। একসময় যে মানুষটি মোটরসাইকেল চালিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতেন, তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

আজ সেই পরিবারের চুলায় অনেক দিনই আগুন জ্বলে না। নিহত কাওসার হাওলাদারের স্ত্রী সাগরি বেগম তার মেয়ে হাফসানা,নুসরাত,তায়েবাও ছেলে আবু হুরায়েরাকে নিয়ে একটি ভাঙাচোরা ঘরে অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন। পরিবারের কোনো স্থায়ী আয় নেই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্বামী হারানোর শোকে কাওসারের স্ত্রী সাগরি বেগম খুবই অসুস্থ। স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলাতে না সামলাতেই সন্তানদের আহার যোগানোর দুশ্চিন্তা কাঁধে চেপে বসেছে। তিন বেলার খাবারের পরিবর্তে অনেক দিন একবেলা খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে তাদের। সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ তো দূরের কথা, ঠিকমতো খাবার জোগাড় করাও এখন পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর রাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কাওসার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা তারা পাননি। ফলে দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, কাওসারের পরিবার এখন চরম মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর,উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং দেশের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, পরিবারটির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং নিয়মিত সরকারি সহযোগিতার ব্যবস্থা করা জরুরি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসহায় সাগরী বেগম বলেন, আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। ৪ নিষ্পাপ সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো কোনো সহায়তা পাইনি।

স্থানীয়রা আরও বলেন, একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান মানুষ ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও দ্রুত এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো উচিত। চারটি নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top