ঘরের মেঝেতে দুই ‘পীরের কবর’ জেগে উঠলো কীভাবে, কেন এত মানুষের ভিড়?

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর ‘জেগে ওঠার’ দাবিকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঝাড়ফুঁক ও কথিত চিকিৎসার কার্যক্রম। বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তির আশায় সেখানে ভিড় করছেন নারী-পুরুষ। পরিবারের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর তাদের বসতঘরের মেঝেতে একে একে দুটি কবর জেগে উঠেছে। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাটিকে ভুয়া দাবি করে কবর দুটি খননের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে ধ্যানে বসে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করে আসছেন। তার কাছে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

সজীবের পরিবারের সদস্যদের দাবি, গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তাদের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। ওই দিন রাত ১২টার দিকে প্রথম কবরটির পাশে আরও একটি কবর দেখা যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে কথিত চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।

ঘরের মেঝেতে থাকা দুটি স্থান নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কবরের দৈর্ঘ্য দুই হাত, অন্যটির তিন হাত। কবর দুটির পাশে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে ঘেরাও করা হয়েছে।

সজীবের মা শিউলী বেগম জানান, তার ছেলে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হননি। ছয় মাস আগে নিজ বাড়িতে স্বপ্ন পাওয়ার পর ধ্যানে বসেন তিনি। এরপর নিজে সুস্থ হয়েছেন এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সজীব বেপারী আগে হোটেল বয়ের কাজ করতেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধ্যানে বসে মানুষকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। গত ২৬ অক্টোবর সকালে তাদের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। একই দিন রাতে একই ঘরে আরেকটি কবর দেখা যায়। তার দাবি, কবর দুটি বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটনার কোনও নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। মূলত ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা জমজমাট করতেই এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে।’

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা খবর পেয়েছি। পুরো ঘটনা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপম মজুমদার বলেন, ‘সরেজমিনে পরিদর্শনের পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top