জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
একটি পরীক্ষার ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীর সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব নয়; এটি শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার প্রস্তুতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—কেন এত শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারল না? শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরেও রয়েছে এমন কিছু দুর্বলতা, যা দীর্ঘদিন ধরে যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি?
৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। গত বছরের ৫৮.৮৩ শতাংশ পাসের হারের তুলনায় এবার ফলাফল কমেছে ৬.৭১ শতাংশ পয়েন্ট। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৪.৮৪ শতাংশে, যা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৭.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। এ পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে।
ব্যর্থতার পেছনে কারণ কী?
ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে। কেউ প্রশ্ন তুলছেন শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে। আবার কোনো কোনো মন্তব্যে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ ও ফরম পূরণসংক্রান্ত নানা সমস্যার কথাও উঠে এসেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্যকে সরাসরি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। কোন প্রতিষ্ঠানে কী সমস্যা ছিল, কোথায় পাঠদানের ঘাটতি রয়েছে কিংবা কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না—এসব নির্ধারণে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রস্তুতি, উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।
একটি বিষয় স্পষ্ট—শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার কারণ একক নয়। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা না করলে তার ফল খারাপ হতে পারে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে, নিয়মিত ক্লাস না হলে কিংবা দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি পাঠদানের ব্যবস্থা না থাকলে তার প্রভাবও পরীক্ষার ফলাফলে পড়তে পারে। তাই সব দায় শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি যাচাই ছাড়া শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করাও উচিত নয়।
ইংরেজি ও আইসিটিতে দুর্বলতা কেন
এবারের ফলাফলে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে। এই দুটি বিষয়ের ফলাফল শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি ও দক্ষতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে শুধু ব্যাকরণ মুখস্থ করা কিংবা পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট প্রশ্ন অনুশীলন করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত পাঠাভ্যাস, শব্দভান্ডার বৃদ্ধি, বাক্য গঠন, অনুধাবন ও লেখার দক্ষতা। একইভাবে আইসিটি বিষয়ে কেবল সংজ্ঞা মুখস্থ করে ভালো ফল করা কঠিন; ধারণা বোঝা, নিয়মিত অনুশীলন এবং ব্যবহারিক জ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা কোন অধ্যায়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে, শ্রেণিকক্ষে বিষয়গুলো যথাযথভাবে বোঝানো হচ্ছে কি না এবং পরীক্ষার আগে তাদের দুর্বলতা শনাক্ত করার ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। শুধু ফলাফল প্রকাশের পর ব্যর্থতার কারণ খোঁজার পরিবর্তে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকলে অনেক শিক্ষার্থীকে আগেভাগে সহায়তা করা সম্ভব।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান: আরও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে একটি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। একটি প্রতিষ্ঠানে একজন বা দুজন শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা এবং একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীর ব্যর্থতা এক বিষয় নয়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদানের নিয়মিততা, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রয়োজন দেখা দেয়।
তবে শূন্য পাসের ফলাফল দেখেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা করা ঠিক হবে না। সেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কত ছিল, শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী ফলাফল কেমন, শিক্ষকসংকট ছিল কি না, ক্লাস নিয়মিত হয়েছে কি না এবং বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের ধরন কী—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল হচ্ছে, তাদের কার্যকর পাঠদানপদ্ধতি ও শিক্ষার্থী সহায়তার অভিজ্ঞতাও পর্যালোচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও তদারকির ব্যবস্থা করা উচিত। উদ্দেশ্য হবে ব্যর্থতার কারণ দূর করা, কেবল দায় নির্ধারণ নয়।
বরিশাল বোর্ডের ফলাফল বিশেষভাবে ভাবাচ্ছে
দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার পথে এইচএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই জায়গায় বরিশাল বোর্ডের পাসের হার এক বছরে ৬২.৫৭ শতাংশ থেকে ৪৪.৮৪ শতাংশে নেমে আসা গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। এবার এ বোর্ডের অধীনে ছয় জেলার ৩৫০টি কলেজ থেকে ৫৭ হাজার ৯১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল; পাস করেছে ২৫ হাজার ৯৭০ জন।
এই ফলাফলকে শুধু একটি সংখ্যাগত পতন হিসেবে দেখলে চলবে না। কোন জেলায় ফলাফল কতটা কমেছে, কোন বিষয়ে অকৃতকার্যতার হার বেশি, শহর ও গ্রামের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবধান কতটা এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে কী ধরনের সমস্যা ছিল—এসব বিষয় আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার।
বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার উপকরণ, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অতিরিক্ত পাঠদানের সুযোগ কতটা রয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠান মানেই দুর্বল—এমন ধারণাও সঠিক নয়। বরং তথ্যের ভিত্তিতে প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই হবে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।
পরীক্ষা কি শুধু পাস-ফেলের হিসাব
পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা মূল্যায়নের একটি মাধ্যম। কিন্তু একটি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক মেধা, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ সাফল্য পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। কেউ একটি বিষয়ে দুর্বল হতে পারে, অথচ অন্য বিষয়ে তার ভালো দক্ষতা থাকতে পারে। আবার পরীক্ষাভীতি, পারিবারিক চাপ, আর্থিক সংকট কিংবা শেখার ঘাটতিও কারও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এসব কারণ দেখিয়ে শিক্ষার মান ও মূল্যায়নের গুরুত্ব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পাসের হার বাড়ানোর জন্য পরীক্ষার মান শিথিল করা কিংবা দুর্বল প্রস্তুতি নিয়েও শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করানো দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। বরং শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে কতটা শিখছে, তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য।
এ জন্য মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতির পাশাপাশি বিষয় বুঝে শেখা, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধান এবং বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত শ্রেণি পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্বলতা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
ফলাফল বিশ্লেষণে চাই জবাবদিহি ও সহযোগিতা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসন—সবার দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শিক্ষকদের পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা শনাক্ত করে সহায়তা দিতে হবে। অভিভাবকদেরও শুধু পরীক্ষার ফলাফলের সময় নয়, সারা বছর সন্তানের পড়াশোনা, উপস্থিতি ও মানসিক অবস্থার খোঁজ রাখতে হবে।
অন্যদিকে শিক্ষা প্রশাসনের উচিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কোনো প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে ফলাফল খারাপ হলে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। কোথাও শিক্ষকসংকট থাকলে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে; কোথাও পাঠদানের ঘাটতি থাকলে প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষভাবে তা যাচাই করতে হবে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিয়েছে। ফলে বোর্ডভিত্তিক ফলাফলের ব্যবধান বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়টিকেই ফলাফল কমার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রয়োজন আরও বিস্তারিত তথ্য ও বিশ্লেষণ।
ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের জন্য এখনই উদ্যোগ প্রয়োজন
ফলাফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অনেকেই হতাশা, অনিশ্চয়তা ও সামাজিক চাপের মুখে পড়ে। পরিবারের প্রত্যাশা, বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাদের মানসিক অবস্থাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। এ সময় তাদের দোষারোপ না করে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করা প্রয়োজন।
কোন বিষয়ে কেন ফল খারাপ হয়েছে, পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ বা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ কী, কীভাবে প্রস্তুতি নিলে ভালো করা সম্ভব—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে। শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষিত নিয়ম অনুসারে তাদের পরবর্তী সুযোগ সম্পর্কে তথ্য জানানোও জরুরি।
একটি খারাপ ফলাফল যেন কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে না দাঁড়ায়। একই সঙ্গে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান পাশে থাকলে অনেক শিক্ষার্থীই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।
দোষারোপ নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ
এবারের ফলাফল আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে—আমরা কি শুধু পরীক্ষায় পাস করানোর জন্য শিক্ষার্থী তৈরি করছি, নাকি তাদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে তুলছি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, মূল্যায়নপদ্ধতি ও প্রশাসনিক তদারকি—সবকিছুই পর্যালোচনা করতে হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ। ফলাফলের দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
এইচএসসির ফলাফল তাই কেবল আনন্দ-বেদনার হিসাব নয়; এটি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে মূল্যায়নের একটি সুযোগ। লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু পাসের হার বাড়ানো নয়, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা। কারণ শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার কারণ খুঁজে সমাধান করা যেমন জরুরি, তেমনি তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার দায়িত্বও আমাদের সবার।
লেখক : সাংবাদিক




