অ্যাডভোকেট আজম খান
অনেকেই বলেন – ‘উকিলরা খালি তালাকের বুদ্ধি দেয়, জোড়া লাগানোর বুদ্ধি দেয় না।’ আজ তাই তালাক নিয়ে নয়, সংসার জোড়া লাগানো নিয়ে বলি।
আমার চেম্বারে যতগুলো সংসার ভাঙার কেস আসে, তার ৮০% ভাঙে ৩টা কারণে –
১. রাগ
২. তৃতীয় ব্যক্তির কান-পড়া
৩. মোবাইল ফোন
বিশ্বাস করুন, কোর্টে এসে কেউ সুখী হয় না।
দুইটা মন একসাথে করার ৩টা পরামর্শ:
১. রাগের সময়টাকে আলাদা করুন:
রাগ উঠলে তখনই সিদ্ধান্ত নেবেন না। রাসূল (সা.) বলেছেন রাগের সময় দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়ো, বসে থাকলে শুয়ে পড়ো, ওযু করো। এই ৫ মিনিটের রাগ সামলাতে পারলে ৫০ বছরের সংসার বেঁচে যায়।
২. তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিন:
আপনাদের ঝগড়া আপনারা দুজন মেটান। মা-বোন-বান্ধবী-প্রতিবেশীকে মাঝখানে আনবেন না। আজ যে আপনাকে বুদ্ধি দিয়ে সংসার ভাঙছে, কাল সে আপনার খবরও নেবে না।
৩. ক্ষমা করতে শিখুন:
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন – ‘আর তোমরা ক্ষমা করো, এটি তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ [সূরা বাকারা-২৩৭]
সব দোষ শুধু একজনের হয় না। একবার ‘আই অ্যাম স্যরি’ বললে যদি সংসারটা বেঁচে যায়, তবে ইগো ভুলে স্যরি বলাই উত্তম।
আমি অ্যাডভোকেট হিসেবে চাই না একটা তালাকও হোক। আমি চাই আমার কাছে কেউ তালাকের জন্য এলেও, তাকে বুঝিয়ে সংসারে পাঠাতে। কিন্তু যদি স্বামী দিনের পর দিন মারে, যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে, নেশা করে – সেখানে আমি জোড়া লাগানোর পরামর্শ দিতে পারি না বোন। সেখানে চুপ থাকা মানে জুলুমকে সমর্থন করা।
আল্লাহ সবার সংসারে শান্তি দিক।
লেখক : আইনজীবী, বরিশাল জজ কোর্ট




