বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেলের (সয়াবিন তেল) দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত ২ সেপ্টেম্বর লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পর বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। অন্যদিকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড় চেয়েছেন আমদানিকারকেরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পবিত্র রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি প্রস্তুতি, সরবরাহসংক্রান্ত সমস্যা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বসেন মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীরা।
বৈঠক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম দৈনিক সমকাল জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা প্রস্তাব দিলেও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে খোলা সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। সেদিন সাবেক বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, বিশ্ব বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ানোর দাবি জানায় আমদানিকারকরা।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি দাম বাড়ানোর। তবে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ ছিল লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর। রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম আবার বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক বাণিজ্য সচিব বলেন, সেটা তখনকার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে সোমবারের বৈঠকে দেওয়া আমদানিকারকদের হিসাবে, বর্তমানে খেজুর আমদানিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়। তাদের দাবি, উচ্চ শুল্কায়নমূল্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে খেজুর আমদানির খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
আমদানিকারকেরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে পণ্য পরিবহন জটিল হয়ে পড়েছে। বিকল্প পথে পণ্য আনতে হওয়ায় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে জটিলতা অব্যাহত থাকলে পণ্য সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খেজুরের জাত, মান ও দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিশর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বাংলাদেশে বিভিন্ন মানের খেজুর আমদানি করা হয়। এসব খেজুরের ক্ষেত্রে একই শুল্কায়নমূল্য নির্ধারণ করা হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আমদানিকারকেরা নির্ধারিত শুল্কায়নমূল্যের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত মান ও দামের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান। তাদের যুক্তি, উচ্চ শুল্কের কারণে ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমদানি শুল্ক নির্ধারণের দায়িত্ব এনবিআরের হলেও এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
এশিয়া পোস্ট




