বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরোজপুরে সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা করতে স্থানীয় সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপিকে।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুরে তার লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেয়া হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আপত্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী ও কয়েকজন ব্যক্তি এ সময় বাধা দেন। পরে পুলিশ লাশটি পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায়। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।
এরপর সন্ধ্যায় পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর পরিবারের খোঁড়া কবরটি একদল লোক মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। তার বোনের ভাষ্য, লোকজন কবর ভরাট করে দেয়ায় পরিবারের সদস্যদের আবার কবর খুঁড়তে হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, লাশ আনার পর দাফন নিয়ে বাধার মুখে পড়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তাদের। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশ লাশটি বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরিবারের সদস্যরা পুনরায় কবর খুঁড়ে রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে তাকে দাফন করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশ নিরাপত্তা দেয়।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, মানিক পশারীর দাফনে জেলা জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা দেননি। বরং সদর থানা পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, মানিক পশারীর জানাজা বা দাফনে তাদের কোনো আপত্তি ছিল না; আপত্তি ছিল তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার উদ্যোগে। তিনি মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তি ও সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানান।




