অনুমতি মেলেনি, আমির হামজার মাহফিল স্থগিত

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পুলিশের ছাড়পত্র না পাওয়ায় মাহফিল স্থগিত করা হয়েছে ।

সোমবার গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিকেলেে এ মাহফিল হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল আনলেও প্রশাসনের চাপে পরে তা ফেরত পাঠিয়ে দেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের না আসার জন্য অনুরোধ জানান।

‘মানবকল্যাণ পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এ তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। মাহফিলে প্রধান অতিথি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান। এ ছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা এমপির উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় রাজশাহী শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি করা হয়েছিল।

মাহফিলের আয়োজক মানবকল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জানান, গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর মাহফিলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। শনিবার সকালে আয়োজকেরা অনুমতির বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে জটিলতা সামনে আসে।

সংগঠনটির সভাপতি ইসমাইল হক জানান, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি জানান যে মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে মাহফিল স্থগিত করা হয়েছে ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, এ ধরনের বড় আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। আবেদনটি ডিসি সাহেবের দপ্তরে পাঠানোর পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। পুলিশের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশীদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মাহফিল বন্ধ করে দেওয়ার এই ঘটনাকে অনেকে ইসলামের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

আমার দেশ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top