‎পিরোজপুরে মাদকসেবনের দায়ে কারাদণ্ড, সেই সুজনই ‘চালাতেন’ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স!

‎
পিরোজপুর সংবাদদাতা

‎পিরোজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে সুজন শেখ (২৮) ও অনি (২৭) নামে দুজনকে আটক করে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃত দু’জনেই পিরোজপুর সদর উপজেলার পৌর একাকার বাসিন্দা। রোববার (১১ অক্টোবর) সদর উপজেলার সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তবে অভিযানে আটক সুজন শেখের পরিচয় অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, তিনি পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক মোতালেব শেখের ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে বাবার দায়িত্বে থাকা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালাতেন এই সুজন শেখ।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে পরিদর্শক মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনের গঠিত রেইডিং টিম এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নবগোপাল সাহার নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সুজন শেখ ও অনি নামে দুজনকে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য সেবন ও সংরক্ষণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।

‎সুজন শেখ পিরোজপুর পৌরসভার খানাখুনিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মোতালেব শেখ পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ উঠেছে, মোতালেব শেখের পরিবর্তে তাঁর ছেলে সুজনকে দিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালানো হতো। তবে নির্ধারিত চালকের পরিবর্তে সুজন কীভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

‎মাদকদ্রব্য সেবন ও সংরক্ষণের অভিযোগে সুজনের কারাদণ্ডের বিষয়টি সামনে আসার পর সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় দায়িত্ব ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি রোগী পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কে চালাচ্ছেন, চালকের দায়িত্ব পালনের বৈধতা রয়েছে কি না এবং নির্ধারিত চালকের পরিবর্তে অন্য কেউ গাড়ি চালালে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

‎এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। জরুরি বিভাগ থেকে চালক মোতালেব স্বাক্ষর করে রোগী নিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর ছেলে কীভাবে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালান, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর অভিযোগ সম্পর্কে সিভিল সার্জন তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে একজন মাদকসেবি এবং সরকারি চাকরি না করেও কিভাবে সরকারি এম্বুলেন্স চালান এটাই এখন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top