মো. মিজানুর রহমান, বোরহানউদ্দিন (ভোলা)
ভোলার বোরহানউদ্দিনে রাতের আঁধারে এক যুবককে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের পর তার দুই চোখ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইমাম হোসেন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম মো. রাজিব (২৮)। তিনি উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফারুক খানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজিবের ভাই মো. রিয়াজের অভিযোগ, সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে বাড়ির সামনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন রাজিব। এ সময় একটি মাইক্রোবাস সেখানে এসে থামে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুই ব্যক্তি পাশ থেকে এসে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।
রিয়াজের দাবি, পরে বদরপুর ও লালমোহন এলাকা হয়ে বিভিন্ন স্থানে রাজিবকে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার দুই চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট করে ভোলা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের কাছে একটি ডোবার পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজিবকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
রাজিবের ভাই আরও অভিযোগ করেন, তার শরীর ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজন তাদের এলাকার বাসিন্দা এবং রাজিব তাদের কয়েকজনকে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি। পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলেও অভিযোগ করেন রিয়াজ।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী জানান, মধ্যরাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে রাজিবের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ইমাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




