বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
আর কোনো বাহিনী থাকছে না র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) নামে। র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত আইনের প্রজ্ঞাপন গেজেটে প্রকাশের পর বুধবার থেকে নতুন নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইউনিটটি। র্যাবের ওয়েবসাইটেও নাম বদলে এসআরবি লেখা হয়েছে।
নাম ও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও র্যাবের জনবল, সম্পদ, তহবিল, দায়, চুক্তি ও নথিপত্র এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে আইনে।
এসআরবি আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯-এ অন্তর্ভুক্ত করা সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো রহিত হবে। তবে র্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা–সংক্রান্ত ২০০৫ সালের বিধিমালা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে ওই বিধিমালা বা অন্য কোনো আইন বা বিধির অধীনে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কিংবা আদালতের কার্যধারাও বহাল থাকবে।
অর্থাৎ র্যাবের পুরোনো আইনি কাঠামোর অবসান ঘটলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার বড় একটি অংশ থাকছে এসআরবিতে। আইনে বলা হয়েছে, র্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাব বই, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিল তৎক্ষণাৎ এসআরবির কাছে স্থানান্তরিত ও ন্যস্ত হবে।
এসআরবি’র ওয়েবসাইট
গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের বিল পাস হয়। বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই বিলটি পাস করা হয়। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে নতুন কাঠামোটি আইনি রূপ পায়। এর পরদিন থেকেই এসআরবি নামে কার্যক্রম শুরু করে ইউনিটটি।
র্যাবের শুরু ও বিতর্কিত পরিণতি
২০০৩ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স সংশোধনের মাধ্যমে র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়। পরের বছর ২৬ মার্চ বাহিনীটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন অভিযানে র্যাবের ভূমিকা আলোচিত হলেও পরবর্তী সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাহিনীটি দেশি-বিদেশি পর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়ে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাব এবং বাহিনীটির তৎকালীন ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া জাতিসংঘ, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে র্যাব বিলুপ্ত বা পুনর্গঠনের সুপারিশ করে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর র্যাব বিলুপ্ত করে বাহিনীটির কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি ওঠে। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কারবিষয়ক কমিটিও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।
এর ধারাবাহিকতায় র্যাবের কাঠামো ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যাস করে এসআরবি গঠন করা হয়েছে। ফলে র্যাব নামে পরিচিত বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অবসান ঘটলেও এর জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদের বড় অংশ নিয়েই পুলিশের অধীনে নতুন নামে যাত্রা শুরু করল এসআরবি।




