জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সকাল তখনও পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। পটুয়াখালীর দুমকির আকাশে রোদের তেজ ধীরে ধীরে বাড়ছে। অথচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করিডোরে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। কারও হাতে পুরোনো প্রেসক্রিপশন, কারও চোখে রাতজাগার ক্লান্তি, কারও মুখে অসহায় অপেক্ষা।
কেউ এসেছেন দূরের গ্রাম থেকে। কেউ নদী পেরিয়ে। কেউবা অসুস্থ স্বজনকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন চিকিৎসকের দরজার সামনে।
অপেক্ষারত মানুষের চোখ বারবার যে দরজাটির দিকে ফিরে যাচ্ছে, তার ওপাশে বসেন একজন চিকিৎসক—ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন।
দরজাটি খুলে যখন একজন রোগী ভেতরে প্রবেশ করেন, তখন বাইরের ব্যস্ত পৃথিবীটা যেন কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়। চিকিৎসকের সামনে বসা মানুষটি তখন আর হাসপাতালের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া কোনো একটি নাম বা টিকিট নম্বর নন; তিনি হয়ে ওঠেন একজন মানুষ—যার আছে ব্যথা, ভয়, অভাব, পরিবার আর সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার আকুলতা।
ডা. শাহীন মন দিয়ে শোনেন। প্রশ্ন করেন। বোঝেন। তারপর চিকিৎসা দেন।
‘একজন রোগী যখন তীব্র যন্ত্রণা আর চোখভরা জল নিয়ে আমার রুমে ঢোকেন, তিনি শুধু একজন অসুস্থ মানুষ নন—তিনি কারও বাবা, কারও মা কিংবা কারও সন্তান। তাদের চোখের সেই পানির ভাষা পড়তে পারাটাই একজন চিকিৎসকের আসল সাফল্য।’
কখনো প্রেসক্রিপশনের কয়েকটি শব্দের সঙ্গে যোগ হয় মমতার কয়েকটি বাক্য। কখনো ওষুধের পাশাপাশি দেওয়া হয় আশ্বাস। আর কখনো একজন অসহায় রোগী চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন এমন এক স্বস্তি নিয়ে, যেন তার কাঁধ থেকে কিছুটা ভার নেমে গেছে।
চিকিৎসার এই মানবিক মুখটিই ধীরে ধীরে ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের পরিচয় হয়ে উঠেছে দুমকির মানুষের কাছে।
একটি হাসপাতাল, বদলে যাওয়া একটি প্রত্যাশা
পটুয়াখালীর দুমকি—নদী, খাল আর সবুজের এক জনপদ। এই জনপদের মানুষের জীবন যেমন প্রকৃতির সঙ্গে মিশে আছে, তেমনি নানা সীমাবদ্ধতার সঙ্গেও তাদের প্রতিদিনের বসবাস।
বিশেষ করে চিকিৎসার ক্ষেত্রে দূরত্ব ও আর্থিক সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল সাধারণ মানুষের বড় দুশ্চিন্তা। জটিল অর্থোপেডিক সমস্যা, দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত কিংবা হাড়-জোড়ের জটিলতায় অনেক রোগীকেই ছুটতে হতো বরিশাল, খুলনা কিংবা রাজধানীর দিকে।
একটি অসুস্থতা তখন শুধু শরীরে আঘাত করত না; আঘাত করত একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিতেও।
এই বাস্তবতার মাঝেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন।
চিকিৎসাশাস্ত্রে এমএস ডিগ্রি এবং প্রায় তিন দশকের পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি চাইলে নিজেকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারতেন। কিন্তু তার কর্মভাবনা যেন অন্যরকম। হাসপাতালের একটি কক্ষে বসে শুধু ফাইল দেখা কিংবা প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়ার বদলে তিনি চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারণ তিনি মনে করেন, একজন মানুষকে সুস্থ করে তোলা যেমন চিকিৎসা, তেমনি একটি সমাজকে সুস্থ রাখাও এক ধরনের চিকিৎসা।
বহির্বিভাগ থেকে জরুরি বিভাগ—হাসপাতালের বিভিন্ন স্তরে সেবার মান, শৃঙ্খলা এবং রোগীর সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা তার কর্মপদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তার দর্শন যেন খুব সহজ— হাসপাতালে একজন মানুষ চিকিৎসা নিতে এসে যেন অবহেলার শিকার হয়ে ফিরে না যান।
সাদা অ্যাপ্রনের আড়ালে যে মানুষটি
চিকিৎসক শব্দটির সঙ্গে আমরা সাধারণত ডিগ্রি, স্টেথোস্কোপ, প্রেসক্রিপশন আর ওষুধের কথা ভাবি। কিন্তু একজন চিকিৎসকের আসল পরিচয় কি শুধু তার ডিগ্রিতে?
ডা. শাহীনের কর্মকাণ্ডের দিকে তাকালে উত্তরটা অন্যরকম মনে হয়। রোগীর অসুস্থতার পাশাপাশি তার সামর্থ্য, পারিবারিক অবস্থা ও মানসিক অবস্থাটিও বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করেন তিনি। কারণ তিনি জানেন—একজন দরিদ্র মানুষের কাছে একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচও কখনো কখনো বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
অর্থের অভাবে কোনো রোগী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে না পারলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সহযোগিতার পথ খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি।
এই জায়গাটিই হয়তো একজন চিকিৎসককে কেবল চিকিৎসক থেকে মানুষের চিকিৎসকে পরিণত করে। কারণ শরীরের ক্ষত ওষুধে শুকিয়ে যায়, কিন্তু অসহায়ত্বের ক্ষত শুকাতে লাগে মানুষের হাত।
হাড়ের চিকিৎসা, মানুষের ভরসা
অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে ডা. শাহীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অর্থোপেডিক্স, ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এবং হাড়-জোড়ের চিকিৎসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার পেশাগত অভিজ্ঞতা তাকে সমৃদ্ধ করেছে।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনশীল জগতের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে নতুন জ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন।
কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞান থেমে থাকে না।
‘শাহীন ডাক্তারের কাছে গেলে মনে হয় নিজের কোনো অভিভাবকের কাছে এসেছি।’
আজকের আধুনিক চিকিৎসা আগামীকাল আরও আধুনিক হয়ে ওঠে। আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে এগিয়ে নেওয়াও একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব।
বিশেষ করে দুর্ঘটনার রোগীর ক্ষেত্রে সময়ই অনেক সময় সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। দ্রুত সিদ্ধান্ত, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং অভিজ্ঞ হাতে চিকিৎসা একজন রোগীর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
দুমকির মতো উপজেলা পর্যায়ের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এই অভিজ্ঞতার উপস্থিতি তাই সাধারণ মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় আশ্বাস।
‘শাহীন ডাক্তার’—একটি নামের ভেতর জমে থাকা আস্থা
লেবুখালী এলাকার স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের কথায় সেই আস্থারই ছবি পাওয়া যায়। তিনি বলেন,
আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি ডাক্তার মানেই অনেক সময় ভয় আর শঙ্কা। কিন্তু শাহীন ডাক্তারের কাছে গেলে মনে হয় নিজের কোনো অভিভাবকের কাছে এসেছি। আমার এক আত্মীয়ের পা ভেঙে যাওয়ার পর সবাই ঢাকায় নেওয়ার কথা বলছিল। এতে অনেক টাকা খরচ হতো। কিন্তু ডাক্তার স্যার এখানে নিজের হাতে যত্ন করে চিকিৎসা দিয়েছেন। এখন সে সুস্থ হয়ে হাঁটছে। উনি শুধু ওষুধ দেন না—কীভাবে চলতে হবে, কীভাবে যত্ন নিতে হবে, সব বুঝিয়ে দেন।
একজন রোগীর এই কথাগুলো হয়তো কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়। কিন্তু মানুষের ভালোবাসারও তো কোনো পরিসংখ্যান হয় না।
একজন চিকিৎসকের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন কখনো কখনো হাসপাতালের কোনো সনদ নয়; বরং বহুদিন পর রাস্তায় দেখা হলে কোনো রোগীর মুখ থেকে বেরিয়ে আসা একটি বাক্য— ‘ডাক্তার স্যার, আপনার চিকিৎসায় আমি ভালো আছি।’
হাসপাতালের বাইরেও যে সেবার হাত
স্বাস্থ্যসেবা শুধু হাসপাতালের চার দেয়ালে আটকে থাকে না। এর শেকড় ছড়িয়ে থাকে গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ঘরের দরজা পর্যন্ত।
পাঙ্গাশিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার শারমিন আক্তারের কথায় উঠে আসে সেই কর্মসম্পর্কের আরেকটি দিক। তিনি বলেন, আমরা যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করি, জটিল কোনো পরিস্থিতিতে বা প্রয়োজনের সময় স্যারকে ফোন করলে তিনি বিরক্ত হন না। বড় পদের কর্মকর্তা হয়েও বন্ধুর মতো কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। কাজের ক্ষেত্রে ভুল হলে ধমক না দিয়ে বুঝিয়ে বলেন। উনার এই আচরণ আমাদের আরও ভালোভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।
রোগ হওয়ার আগেই যদি প্রতিরোধ করা যায়
ডা. শাহীন মনে করেন, চিকিৎসার সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়টি হয়তো হাসপাতালের বিছানায় নয়; বরং সেই দিন, যেদিন একজন মানুষ সচেতন হয়ে রোগটিকেই তার কাছে আসতে দেন না। এই ভাবনা থেকেই স্বাস্থ্যসচেতনতা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারণ তিনি মনে করেন, একজন মানুষকে সুস্থ করে তোলা যেমন চিকিৎসা, তেমনি একটি সমাজকে সুস্থ রাখাও এক ধরনের চিকিৎসা।
তরুণদের কাছে একজন চিকিৎসক, একজন শিক্ষক
একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার তার জ্ঞান। নিজের অভিজ্ঞতা যদি পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তবেই সেই অভিজ্ঞতা সময়কে অতিক্রম করে।
ডা. শাহীন তরুণ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। রোগীর সঙ্গে আচরণ, পেশাগত নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং মানবিক চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব তিনি সহকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন।
তার কাছে চিকিৎসা শুধু বিজ্ঞান নয়; এটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্কেরও একটি শিল্প।
রোগীর শরীরের রোগ নির্ণয় করতে যেমন পরীক্ষা লাগে, তেমনি রোগীর মনের ভয় বুঝতে লাগে মন।
‘রোগী শুধু একজন অসুস্থ মানুষ নন’
ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের চিকিৎসাদর্শনের সবচেয়ে মানবিক জায়গাটি উঠে আসে তার নিজের কথায়।
তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশাটা আমার কাছে কোনো চাকরির চুক্তিপত্র নয়, এটি সরাসরি মানুষের সঙ্গে আত্মার বন্ধন তৈরি করার একটি মাধ্যম। দেশ-বিদেশের বড় বড় সেমিনারে বা উচ্চতর প্রশিক্ষণে যা শিখেছি, তা যদি দুমকির কোনো খেটে খাওয়া দিনমজুর বা সাধারণ মানুষের উপকারে না আসে, তবে সেই ডিগ্রি আর অভিজ্ঞতার কোনো মূল্য আমার কাছে নেই।
তিনি আরও বলেন, একজন রোগী যখন তীব্র যন্ত্রণা আর চোখভরা জল নিয়ে আমার রুমে ঢোকেন, তিনি শুধু একজন অসুস্থ মানুষ নন—তিনি কারও বাবা, কারও মা কিংবা কারও সন্তান। তাদের চোখের সেই পানির ভাষা পড়তে পারাটাই একজন চিকিৎসকের আসল সাফল্য।
এই উপলব্ধিই চিকিৎসাকে পেশা থেকে সেবায় উন্নীত করে।
চিকিৎসা জীবনে সবচেয়ে বড় পুরস্কার
একজন চিকিৎসকের জীবনে ডিগ্রি আসে, পদ আসে, দায়িত্ব আসে, প্রশিক্ষণ আসে। কিন্তু সবকিছুর ওপরে থাকে মানুষের ভালোবাসা।
ডা. শাহীনের ভাষায়,দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক কিছু পেয়েছি। কিন্তু রোগী সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তাদের চেহারায় যে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে, তার চেয়ে বড় কোনো অ্যাওয়ার্ড এই পৃথিবীতে নেই।
শেষ বিকেলের আলোয় একজন চিকিৎসক
দিন শেষে হাসপাতালের করিডোর হয়তো ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে আসে। রোগীর ভিড় কমে যায়। পায়ের শব্দ ক্ষীণ হয়ে আসে। অপেক্ষারত মানুষগুলো একে একে বাড়ির পথে ফিরে যান।
কিন্তু চিকিৎসকের দায়িত্বের গল্প সেখানে শেষ হয় না। কারণ মানুষের অসুস্থতা ঘড়ির কাঁটা দেখে আসে না।
কখনো রাতের ফোন, কখনো দুর্ঘটনার খবর, কখনো জরুরি কোনো রোগী—একজন চিকিৎসকের কাছে দায়িত্বের দরজা সবসময়ই খোলা থাকে।
ডা. মীর শহীদুল হাসানের দীর্ঘ কর্মজীবনের গল্পও তাই শুধু একটি পদবি বা একটি হাসপাতালের গল্প নয়।
এটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর গল্প। এটি একজন চিকিৎসকের সাদা অ্যাপ্রনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা একজন মানুষের গল্প।
যেখানে স্টেথোস্কোপের শব্দের সঙ্গে মিশে থাকে মমতা, প্রেসক্রিপশনের অক্ষরের সঙ্গে মিশে থাকে আশ্বাস, আর চিকিৎসার সঙ্গে মিশে থাকে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।
দুমকির মানুষ হয়তো তাকে নানা নামে ডাকেন—ডাক্তার সাহেব, শাহীন ডাক্তার, স্যার।
কিন্তু সব নামের ভেতরে যে একটি শব্দ সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সেটি হলো— আস্থা। আর চিকিৎসকের জীবনে মানুষের এই আস্থার চেয়ে বড় কোনো পদক নেই, কোনো সনদ নেই, কোনো পুরস্কার নেই।
মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মাটিতে সেই সাফল্যেরই এক মানবিক অধ্যায় লিখে চলেছেন ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীন।




