‘২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তোলা’র বিষয়ে মুখ খুললেন সেই জামায়াত নেতা

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতি করে ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো.মহিউদ্দিন।

তার বিরুদ্ধে স্থানীয় মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার একই নামের মৃত আরেক শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে অবৈধভাবে ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে তজুমদ্দিন উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. মহিউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে আমি নাকি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে মৃত শিক্ষক মো.মহিউদ্দিনের একাউন্ট ৪৬০৬ থেকে অবৈধভাবে বেতন ভাতা তুলছি। অথচ প্রকৃত সত্য হল আমার মূল একাউন্ট নাম্বার ৮০৫, যা থেকে আমি বিগত ১৭ বছর ধরে নিয়মমাফিক আমার বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছি। ৪৬০৬ একাউন্ট ও ইনডেক্সের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, মূল বিষয়টি হচ্ছে, মৃত মহিউদ্দিন এবং আমার নাম মহিউদ্দিন হওয়ায় অতীতে অফিসিয়াল তথ্য সংরক্ষণের সময় একটি প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।

একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন আরও বলেন, আমি বর্তমানে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করছি। আমার ব্যক্তিগত সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে এবং কায়েমি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে এসব অসত্য তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অন্যদিকে এদিন রাতে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নেতা মো.মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে আলাদা বিবৃতি দিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী।

বিবৃতিতে জানানো হয়, এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর জালিয়াতি করে জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন ২০ বছর ধরে বেতন তুলছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা, বানোয়াট, প্রোপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়।

মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মাদ্রাসাটির সুপার মো.নুরুজ্জামান জামায়াত নেতা মহিউদ্দিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্ধের জেরে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা জামায়াতে ইসলামী আরও জানায়, আমরা খবর নিয়ে জানতে পেরেছি ওই মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন মো.মহিউদ্দিন। ২০ বছর পর তার নিয়োগ নিয়ে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা তার মানহানি করারই মূল উদ্দেশ্য।

আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, অত্র মাদ্রাসার সুপার নুরুজ্জামান অনেক বছর আগেই সুপার হিসেবে যোগদান করেছেন। এ ধরনের ঘটনা থাকলে অবশ্যই তিনি যথাসময়ে ব্যবস্থা নিতেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি তা না করে জনপ্রিয় শিক্ষক মহিউদ্দিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্ধের জেরে এবং রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের হীন উদ্দেশে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন বলে আমরা অবগত হয়েছি।

যিনি এ ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে জামায়াত নেতা মহিউদ্দিনের সম্মানহানি করে চলেছেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সম্প্রতি প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসাটির সুপার মো.নুরুজ্জামান।

মাদ্রাসা সুপার অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মো.মহিউদ্দিন নামে অন্য এক ব্যক্তি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যার ইনডেক্স নম্বর ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬,পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তার মৃত্যু হলে মাদ্রাসায় উক্ত পদটি শূন্য হয়। এরপর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও জামায়াত নেতা মো.মহিউদ্দিন পিতা আছমত আলী মহাজন, যার ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২, ব্যাংক হিসাব নং ৪৫৭৭, গত ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

মাদ্রাসা বোর্ডে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি বহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স ব্যবহার এবং নামের মিল থাকায় মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন শিক্ষক মহিউদ্দিন।

এদিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিলেও বেতন ভোগ করছেন জুনিয়র শিক্ষক পদের। এছাড়া ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিও সিটে মহিউদ্দিনের ইনডেক্স এর বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ৪৬০৬ পাওয়া যায় এবং ঘটনাটি জানাজানির পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ টিমের তদন্তে ইতোমধ্যে অনিয়মের অনেকটা প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি জানা যাবে।

যুগান্তর

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top