বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
কবে নাগাদ নির্বাচন হবে, তার দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ঠিক করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলালকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছে দলটি। এদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম।
ফলে এখন পর্যন্ত এটা নিশ্চিত যে, আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে মূল লড়াই হবে জামায়াতের। যদিও এই নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপরও লড়াইটা যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা দলীয় প্রতীক থাক বা না থাক, মেয়র পদে দলীয়ভাবেই প্রার্থী দেবে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো।
২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয় ২০০৩ সালে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়ে জয়লাভ করে বিএনপি। ২০০৮ সালে অবশ্য জয়ের মালা যায় আওয়ামী লীগের ঘরে। ২০১৩ সালে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করে বিএনপি। নগর পরিষদের ইতিহাসে এই ৩টি নির্বাচনকেই মোটামুটি ধরা হয় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসাবে। ২০১৮ ও ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে ওঠে ব্যাপক কারচুপি আর ভোট ছিনতাইয়ের অভিযোগ। এ দুটি নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করা হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং দ্বিতীয়বার শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ ওরফে খোকন সেরনিয়াবাতকে।
২০২৩-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের খোকন সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। লোকদেখানো সেই ভোটে ৩৫ হাজারের মতো ভোট দেওয়া হয় তার বাক্সে। ভোটের দিন অনিয়ম-কারচুপির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হন ফয়জুল।
বর্তমানে এই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসাবে রয়েছেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন। তিনিসহ আরও অন্তত ৫ জন আছেন মেয়র পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায়। তাদের মধ্যে কার ভাগ্যে জুটবে মনোনয়ন, তা নিশ্চিত নয়। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে একধাপ এগিয়ে গেছে জামায়াত। মেয়রপ্রার্থী হিসাবে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলালকে চূড়ান্ত করেছে তারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে হেলালকে প্রার্থী করেছিল জামায়াত। পরে আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেয় দলটি। ফলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন হেলাল।
মেয়র পদে প্রার্থিতা প্রশ্নে হেলাল বলেন, ‘মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দল থেকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে আমাকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেভাবেই কাজ করছি।’
মেয়র পদে এখানে আরেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ধরা হয়েছিল মুফতি ফয়জুল করীমকে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সিটি মেয়রসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তবে এবার মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফয়জুল করিম বলেন, ‘আমাদের দল থেকে একজন প্রার্থী থাকবে। তবে আমার নির্বাচন করার কোনো ইচ্ছা নেই।’
পরিচয় না প্রকাশের শর্তে ইসলামী আন্দোলনের এক নেতা বলেন, ‘ফয়জুল করিম চরমোনাইয়ের বর্তমান পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ছোট ভাই। তার প্রার্থী হওয়া আর অন্য কাউকে প্রার্থী করা তো এক নয়। তিনি প্রার্থী হলে যে গণজোয়ার আসবে, তা অন্য কাউকে দিয়ে সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে প্রকারান্তরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে যাবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে।’
এদিকে গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত বিএনপিতে মেয়র পদের মনোনয়ন নিয়েও রয়েছে দ্বন্দ্ব। তার ওপর যদি প্রার্থী না হন মুফতি ফয়জুল, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আরও ভারী হবে জামায়াতের পাল্লা। সেক্ষেত্রে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে বিএনপির প্রার্থীকে। বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন বলেন, বিএনপির মতো একটি বড় দলে মনোনয়ন আর নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে প্রশ্ন যখন দলের সম্মান, তখন দেখবেন সবাই এক হয়ে যাবে। সুষ্ঠু নির্বাচনে এখানে বিএনপির পরাজয়ের কোনো ইতিহাস নেই।’
যুগান্তর




