বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল শেষ হলো নাটকীয় টাইব্রেকারে। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ১-১ সমতার পর পেনাল্টিতে আর্সেনালকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ইউরোপ সেরার শিরোপা ধরে রাখল প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)।
বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় শুরুটা অবশ্য হয়েছিল আর্সেনালের স্বপ্নের মতো। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে কাই হাভার্টজ গোল করে এগিয়ে দেন মিকেল আরতেতার দলকে। মার্কিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রসার্ডের গায়ে লেগে হাভার্টজের সামনে পড়ে। সেখান থেকে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কঠিন কোণ থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান জার্মান ফরোয়ার্ড।
গোলের পর আর্সেনাল ম্যাচের গতি কমিয়ে রক্ষণে মনোযোগ দেয়। প্রথমার্ধে পিএসজি বল দখলে এগিয়ে থাকলেও ডেভিড রায়াকে বড় পরীক্ষা নিতে পারেনি। আর্সেনালের রক্ষণ এতটাই সংগঠিত ছিল যে বিরতির আগে পিএসজির আক্রমণভাগকে বেশির ভাগ সময় দূরপাল্লার চেষ্টাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবিই চলছিল। কিন্তু ৬২ মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের মোড়। খভিচা কাভারাতস্কেলিয়াকে বক্সে পেছন থেকে ফাউল করেন ক্রিস্তিয়ান মসকেরা। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান, ভিএআর পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে।
সমতা ফেরার পর ম্যাচ আরও খোলা হয়ে যায়। পিএসজি জয়ের সুযোগও পেয়েছিল। কাভারাতস্কেলিয়ার একটি শট ডিফ্লেক্ট হয়ে পোস্টে লাগে। শেষ দিকে ব্র্যাডলি বারকোলা দারুণ এক কাউন্টার আক্রমণ থেকে সুযোগ পেয়েও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর থাকে ১-১।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দল গোল পায়নি। আর্সেনাল বেশির ভাগ সময় রক্ষণ সামলেছে, আর পিএসজি বল দখলে রেখে আক্রমণের পথ খুঁজেছে। শেষ মুহূর্তে ইউরিয়েন টিম্বার ও ভিক্টর গিয়োকেরেসের সুযোগ থাকলেও আর্সেনাল জয়সূচক গোল পায়নি। ফলে শিরোপার ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে পিএসজির হয়ে গোল করেন গনসালো রামোস, দেজিরে দুয়ে, আশরাফ হাকিমি ও লুকাস বেরালদো। নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে আর্সেনালকে আশা দেখিয়েছিলেন রায়া। কিন্তু আর্সেনালের হয়ে এবেরেচি এজে পেনাল্টি বাইরে মারেন। ভিক্টর গিয়োকেরেস, ডেকলান রাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি গোল করলেও শেষ শটে গ্যাব্রিয়েল বল উড়িয়ে মারেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে।
সেই মিসেই শেষ হয় আর্সেনালের স্বপ্ন। পিএসজি টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখে।
আর্সেনালের জন্য রাতটা ছিল আক্ষেপের। শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় তারা পিএসজিকে আটকে রেখেছিল। কিন্তু মসকেরার ফাউল, দেম্বেলের পেনাল্টি এবং টাইব্রেকারের চাপ শেষ পর্যন্ত তাদের ইউরোপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে দেয়।ক্লাবটি।




