ইরানে ফের হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও সমুদ্রে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করছিল এমন কয়েকটি নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকমের বরাতে বিবিসি জানায়, আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ এসব হিসেবে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা দিতেই এ অভিযান চালনো হয়।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন বাহিনী সংযম প্রদর্শন করছে। তবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। এখানে ইরানের একটি প্রধান নৌঘাঁটি রয়েছে এবং এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত।

এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তবে সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও এই সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটল।

এর আগে সোমবার, ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথে বাধাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে কাতারের দোহায় পৌঁছেছে।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, এই হামলাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ করার চলমান আলোচনাকে ব্যাহত করতে পারে।

তিনি বলেন, মার্কিন পক্ষ থেকে খুব সীমিত তথ্য আসছে; আমরা অভিযানটির বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানি না। এই হামলার বিষয়টি অস্বাভাবিক কি না, তা বলা কঠিন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তবে তিনি বলেন, এখনই যুদ্ধ শেষ করার মতো চূড়ান্ত চুক্তি হচ্ছে না।

বাঘাই বলেন, আলোচ্য বিষয়গুলোর বড় একটি অংশে সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষর খুব কাছাকাছি এমন দাবির সুযোগ নেই।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দিলেও পরে আলোচকদের তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্ভাব্য সমঝোতার আশা করেছেন।

জানা গেছে, আলোচনায় থাকা খসড়া সমঝোতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফা আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, জব্দ করা ইরানি অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ জটিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি বাহিনী যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পায়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top