বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
হোয়াইট হাউসের সামনে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় এক বন্দুকধারী। প্রায় ১২ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন হয়েছেন বন্দুধারী। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন এক পথচারী।
শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। চলছে তল্লাশি অভিযান। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
সিক্রেট সার্ভিস এক বিবৃতি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের কাছে নিরাপত্তা চৌকিতে ওই বন্দুকধারী গুলি ছোড়ে। পুলিশ কর্মকর্তারা পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে বন্দুকধারী গুলিবিদ্ধ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এবং সেভেন্টিনথ স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের মোড়ের কাছে এই ঘটনা ঘটে। হোয়াইট হাউসের কাছে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান সিএনএনের সাংবাদিকেরা। এ ঘটনায় তদন্ত করার কথা জানিয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। নর্থ লন এলাকায় থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত হোয়াইট হাউসের ব্রিফিং রুমে সরিয়ে নেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে চিৎকার করতে থাকেনতারা। সাংবাদিকদের যে যার জায়গায় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেন।
এরপর হোয়াইট হাউস এলাকায লকডাউন জারি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লকডাউন তুলে নেয় কর্তৃপক্ষ।
সিক্রেট সার্ভিসের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে এফবিআইও রয়েছে। সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে তারাও তদন্ত চালাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে এফবিআইয়ের প্রধান কাশ প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ঘটনাস্থলে তাদের অফিসাররা রয়েছেন। সিক্রেট সার্ভিসকে সাহায্য করছেন তারা। যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল)ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস করেস্পন্ডেন্ট নৈশভোজ অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় হিলটনে ছয় থেকে সাত রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২৬০০ জন গেস্ট। তারা প্রাণভয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়েন, কেউ কেউ পালিয়ে যান।
হামলাটি চালিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা কোল টমাস অ্যালেন। তিনি ট্রেনযোগে এসে হিলটনে চেক-ইন করেছিলেন। একসঙ্গে শটগান, হ্যান্ডগান ও ছুরি নিয়ে ট্রাম্পের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা করেছিলেন। হামলাকারীর কাছ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প ও তার কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ইচ্ছার কথা লেখা ছিল।
গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসের সামনে আততায়ীর গুলিতে এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছিল। গুরুতর জখম হয়েছিলেন আর এক জন।




