বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
বরিশালের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করে সেখানে নামী চিকিৎসকদের স্বাক্ষর জাল করার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা।
পরবর্তীতে এনএসআইর দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বরিশাল নগরীর তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের প্যারারা রোড এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এনএসআই সদস্যরা এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম অংশ নেয়।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জরিমানা করা প্রতিষ্ঠান তিনটির মধ্যে প্যারারা রোডের ‘দি হিউম্যান কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস’-এর স্বত্বাধিকারী ফয়সাল মাহমুদকে ৭ হাজার টাকা, ‘মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর জহরলাল সরকারকে ২০ হাজার টাকা এবং ‘সাউথ এভার কেয়ার মেডিকেল সার্ভিসেস’-এর বিভাস চন্দ্র ব্যাপারীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এনএসআই সদস্যরা গভীর গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছিলেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই যৌথ অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, তদন্তে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতির হাতেনাতে প্রমাণ মিলেছে। রোগীদের যে প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল, তাতে যে চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, তা খোদ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক নিজেই জানেন না! অর্থাৎ চিকিৎসকের অজান্তেই তার ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল।
এছাড়া, অভিযুক্ত তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত বিপুল মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক কিট পাওয়া গেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠান তিনটি পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোনো যথাযথ বৈধ লাইসেন্স বা হালনাগাদ সনদও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এসব গুরুতর অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয় এবং জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে এবং রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এই ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী।
কালবেলা




