ভেঙে দেওয়া হলো বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ, এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পরপরই গুঞ্জন ছিল বিসিবির কমিটি ভেঙে যাবে। নির্বাচনের দেড় মাস পর আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করেছে। পাশাপাশি ১১ সদস্যের এডহক কমিটি ঘোষণা করেছে। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আজ বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সেই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রায় আধ ঘণ্টা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে নির্বাচনে প্রাপ্ত অনিয়মগুলো তুলে ধরা হয়। সেখানে জেলা-বিভাগের এডহক কমিটি বিসিবির নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুনঃগঠন করে। বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবির অন্যতম পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিম যথাক্রমে ঢাকা জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর হয়েছেন। যেটা কমিটির কাছে ক্রীড়া উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ মনে হয়েছে।

বিসিবির গঠনতন্ত্রে এডহক কমিটির বিধান নেই। তবে বিসিবি অন্য দশটি ফেডারেশনের মতো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত সংস্থা। তাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২০১৮ সালের ২১ ধারা অনুযায়ী যে কোনো সময় যে কোনো ফেডারেশনের এডহক কমিটি গঠন করতে পারে।

জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে একবার কাউন্সিলর নাম পাঠিয়েছিল। সেই নামের পরিবর্তে বিসিবি সভাপতির চিঠির প্রেক্ষিতে আবার কাউন্সিলর নাম প্রেরণ করতে চিঠি দেওয়া হয়। এই চিঠিও কমিটির কাছে বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপ মনে হয়েছে। বিসিবি সভাপতির আরো অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে কমিটি। বিশেষ করে সি ক্যাটাগরিতে ১০ জন জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় মনোনীত করার দায়িত্ব বোর্ডের। তদন্ত কমিটি বোর্ড মিটিংয়ের কোনো সভা খুঁজে পায়নি এবং বিসিবি সিইও’র কাছে চিঠি দিয়েও উত্তর পায়নি। তাই এটি কমিটির কাছে বিসিবি সভাপতির হস্তক্ষেপ মনে হয়েছে। জেলা-বিভাগ, সি ক্যাটাগরির পাশাপশি ক্লাব ক্যাটাগরির কাউন্সিলরশিপেও অনিয়ম পেয়েছে বিসিবি। ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপ নির্ধারিত সময়ের পড়ে জমা পড়েছে। এটি কমিটির কাছে নির্বাচনে অনিয়ম বলে প্রতীয়মান মনে হয়েছে।

বিসিবির গঠনতন্ত্রে এডহক কমিটির বিধান নেই। তবে বিসিবি অন্য দশটি ফেডারেশনের মতো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত সংস্থা। তাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২০১৮ সালের ২১ ধারা অনুযায়ী যে কোনো সময় যে কোনো ফেডারেশনের এডহক কমিটি গঠন করতে পারে। এ নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ক্রীড়া আমিনুল এহসান বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে যথাযথ কর্তৃপক্ষ। এটি আইসিসিকে জানানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১৮ সালের আইন মোতাবেক এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন এডহক কমিটি দিয়েছে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল সরকারি হস্তক্ষেপ গ্রহণ করে না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে এডহক কমিটি আইসিসির কাছে পাঠিয়েছে। আইসিসি এই কমিটি গ্রহণ করবে কি না এই বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) সুস্পষ্ট কিছু বলেননি। তার উত্তর, ‘বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। কমিটির ব্যাপারেও তারা অবহিত।’

এডহক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পুনরায় নির্বাচন করতে পারবেন কি না এই বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনে এডহক কমিটির কেউ প্রার্থী হতে পারবেন কি না সেটা স্পষ্ট নেই। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইনেও কিছু নেই

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) এডহক কমিটির ১১ জনের নাম ঘোষণার সময় বলেছেন, ‘এই এডহক কমিটি আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।’ এডহক কমিটির দায়িত্ব মূলত সুষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করাই। এডহক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পুনরায় নির্বাচন করতে পারবেন কি না এই বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। বারবার এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলেও তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত কমিটির কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবে, এডহক কমিটির দায়িত্ব এ রকমই।’

জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রে এডহক কমিটির সদস্যদের নির্বাচনে বাধা রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় তারা পদত্যাগ করে নির্বাচনে প্রার্থী হন। ফেডারেশনগুলোর নির্বাচনে এডহক কমিটির কেউ প্রার্থী হতে পারবেন কি না সেটা স্পষ্ট নেই। এমনকি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইনেও কিছু নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top