পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় ‘ফ্যাসিবাদী হাসিনার মুখাবয়ব’

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা, আনন্দ শোভাযাত্রা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা। বাঙালির পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে এটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন এই নামের মধ্যে সর্বজনীনতা নেই। তারা আরও বলছেন, শোভাযাত্রায় যেসব প্রতীক থাকে তাতে আপামর বাংলার মানুষের সংস্কৃতির পরিচয় থাকে না। সেখানে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিষয় গত ২০-৩০ বছরে একটু একটু করে প্রবেশ করানো হয়েছে। সেদিক থেকে এই শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হওয়া জরুরি। পাশাপাশি এমন সব প্রতীকের ব্যবহার র‌্যালিতে হওয়া উচিত যা সর্বজনীন।

যে নামেই হোক আসছে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় অন্যতম প্রতীক হবে ফ্যাসিবাদের। যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মুখাবয়বের দুপাশে থাকবে শিংয়ের মতো। জুলাই বিপ্লবের প্রতীক হিসাবে মুগ্ধর পানি লাগবে বোতলটি পাবে ১৫ ফিট উচ্চতার আদল। তার ভেতরে আরও অনেক পানির বোতল থাকবে শহিদদের স্মরণে।

জুলাই বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে এবার।

সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সাম্প্রতিক সময়ে ‘মঙ্গল’ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হতে পারে এমন ইঙ্গিত দেন। পরে ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে তিনি জানান, মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হচ্ছে না।

কিন্তু মঙ্গল শোভাযাত্রার নামের পরিবর্তন ও সর্বজনীন কোনো নাম দেওয়ার বিষয়ে কথা বলছেন অনেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আনন্দ শোভাযাত্রা বা বৈশাখী শোভাযাত্রা বলা ভালো। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সঠিক মনে হয় না। মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটিকে সর্বজনীন করতে হলে নামটা অবশ্যই পরিবর্তন করা উচিত। একজন সাধারণ মানুষকে যদি বলা হয় আমি আনন্দ শোভাযাত্রায় বা বৈশাখী শোভাযাত্রায় যাচ্ছি তাহলে সেটি সহজেই বুঝবে। কিন্তু তাকে যদি বলা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায়’ যাচ্ছি তাহলে সেটি সেভাবে বুঝতে পারবে না। সহজবোধ্য হবে না।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top