রান উৎসবের অপেক্ষায় বরিশাল স্টেডিয়াম

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টায় এতদিনে সফল হতে চলেছে বিসিবি। অপেক্ষা আর কয়েক মাসের। আগামী ডিসেম্বরে বরিশাল স্টেডিয়ামে নতুন টুর্নামেন্টের পর্দা উঠছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ দূর হচ্ছে। দেশসেরা ক্রিকেটারদের খেলা মাঠে থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমীদের এই আনন্দ যোগ হতে যাচ্ছে রান উৎসবে।

ডিসেম্বরে বিসিবির নতুন টুর্নামেন্ট হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আর টি-টোয়েন্টি মানেই রানের খেলা, সেই রানের দেখা মিলবে নতুন মাঠটিতে। তাই মিরপুর নয়, সিলেট বা চট্টগ্রামের মতো উইকেট নিয়ে রান উৎসবের অপেক্ষায় বরিশাল স্টেডিয়াম।

দেশের শীর্ষ স্টেডিয়াম মিরপুরের পিচ নিয়ে দুর্নামের শেষ ছিল না এতদিন। অথচ চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া, খুলনা এমনকি টেস্ট ভেন্যু না হয়েও রংপুর ও রাজশাহীর স্টেডিয়ামের পিচ বাহবা কুড়িয়েছে ক্রিকেট মহলে।

এখন প্রশ্ন বরিশালের নতুন স্টেডিয়ামের পিচ কেমন হতে যাচ্ছে? এই মাঠের পিচ কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বদিউল আলম খোকন জানিয়েছেন, ভয়ের কিছু নেই। আরেকটি মিরপুর নয়, চট্টগ্রাম বা সিলেটের দেখা পাবে বাংলাদেশ।

আনুষ্ঠানিকভাবে বরিশাল স্টেডিয়ামের কিউরেটরের দায়িত্ব পাওয়ার পর সোমবার বিভাগটিতে স্থায়ীভাবে যাচ্ছেন খোকন। তাই স্টেডিয়ামের সবশেষ কী পরিস্থিতি, তা নিজ চোখে দেখার সুযোগ এখনো হয়নি তার।

তবে কর্মীদের থেকে যতটুকু শুনছেন সেই ধারণা থেকে আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, মিরপুরের মতো কালো মাটি এখানে ব্যবহার করা হয়নি। বরিশাল স্টেডিয়ামের পিচের মাটি বাদামি, যা সিলেট ও চট্টগ্রামের মাটির সঙ্গে অনেকটাই মিল আছে। সে কারণে মিরপুরের মতো উইকেটের আচরণ এখানে দেখা যাবে না। তবে নতুন পিচের চরিত্র নিশ্চিতভাবে বুঝতে হলে দু-একটি ম্যাচ খেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বরিশালের এই স্টেডিয়ামের পিচ প্রায় তিন বছর আগে তৈরি করেছিলেন অস্ট্রেলীয় কিউরেটর টনি হেমিং। এরপর কিছু সময় পিচের তত্ত্বাবধানে ছিলেন গামিনি ডি সিলভা।

ডিসেম্বরে এনসিএল টি-টোয়েন্টি শুরুর আগে নভেম্বরের মধ্যে পিচকে পুরোপুরি প্রস্তুত করার পরিকল্পনা চলমান। তখন উইকেটের চরিত্রও অনেকটাই নির্ধারণ হয়ে যাবে। স্পিন সহায়ক, বাউন্সি নাকি ব্যাটিং সহায়ক— কেমন উইকেট হবে, তা নির্ভর করবে ম্যাচের আগে পিচ তৈরির প্রক্রিয়ার ওপর। একই মাঠে একেক ম্যাচের জন্য একেক ধরনের পিচও তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন খোকন।

এখন অবশ্য মাঠ প্রস্তুতির প্রাথমিক কাজ চলছে। বিশেষ করে আউটফিল্ডে শেষ মুহূর্তের কাজ বাকি। মরা ঘাস তুলে সেখানে নতুন ঘাস লাগিয়ে আউটফিল্ড সবুজ করার কাজ চলছে। ডিসেম্বরের টুর্নামেন্টের আগে মাঠকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতে নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে।

স্টেডিয়ামটির শুরুটা যেহেতু টি-টোয়েন্টি আসর দিয়ে, এখানে বেশ রান হবে বলে জানিয়েছেন খোকন, ‘উইকেটে বর্তমানে সজীব ঘাস রয়েছে। তবে মাঠটির ক্রিকেট যাত্রা যেহেতু টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে, তাই ব্যাটারদের জন্য রান করার সুযোগ থাকবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তো সবাই রান চায়। ফলে উইকেটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে সেই বিবেচনা রাখা হবে।’

বরিশাল ও খুলনা স্টেডিয়ামের পিচের দায়িত্ব পাওয়া খোকনের জন্য নতুন মাঠ তৈরির কাজটি অবশ্যই বিশেষ কিছু। তিনি এর আগে মিরপুর, বগুড়া ও খুলনার মাঠ তৈরির কাজেও যুক্ত ছিলেন। বরিশালের মাঠ তৈরির দায়িত্বও বিসিবি তার ওপর আস্থা রেখেই দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ডিসেম্বরে এনসিএল টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে মাঠটির প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে অভিষেক হবে। তবে এর আগে ২০১৯ সালে স্টেডিয়ামটি নির্মাণের ৫৩ বছর পর প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল একটি চার দিনের যুব টেস্ট ম্যাচ খেলে। এ ছাড়া ২০০৮ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত কবি জীবনানন্দ দাস স্টেডিয়ামটিতে।

আগামীর সময়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top