চার সন্তান, চার জন্মসাল, জন্মদিন সবার ১৭ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক

চার সন্তান, জন্ম হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বছরে; কিন্তু চারজনের জন্মদিন একই – ১৭ সেপ্টেম্বর। সর্বশেষ গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) চতুর্থ সন্তানের জন্মের মধ্য দিয়ে অ্যাডভোকেট ইউনুসের পরিবারে ঘটলো ব্যতিক্রমী এই ধারাবাহিকতা।

অ্যাডভোকেট ইউনুসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয় তাঁর বড় মেয়ে ইয়ালিনা হাসিন। এরপর ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নেয় ছোট মেয়ে ইফতালিয়া হাসিন। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর আলো দেখে বড় ছেলে ইয়াসিফ হাসান। আর সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁদের চতুর্থ সন্তানের (ছোট ছেলে) জন্ম হয়েছে।

অর্থাৎ চার সন্তানের জন্মসাল আলাদা হলেও জন্মতারিখ একই ১৭ সেপ্টেম্বর। পরিবারের কাছে দিনটি এখন বিশেষ এক আনন্দের দিন।

অ্যাডভোকেট ইউনুস জানান, আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে সন্তানদের সবার সম্ভাব্য প্রসবের সময় সেপ্টেম্বর মাসে এসেছিল। পরে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ২-৩ দিন এদিক-সেদিক করে একই দিনে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।

এই ব্যতিক্রমী ঘটনাকে নিজের কাছেও ‘মিরাকল’ মনে করে অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।

চতুর্থ সন্তানের আগমনে পরিবারে এখন আনন্দের আবহ। একই তারিখে চার সন্তানের জন্মদিন এমন ব্যতিক্রমী কাকতালীয় ঘটনা পরিবারটির ১৭ সেপ্টেম্বরকে করে তুলেছে আরও স্মরণীয়।

অ্যাডভোকেট হাফেজ মো. ইউনুসের গ্রামের বাড়ি বরিশালের হিজলা উপজেলায়। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা আবুল হাশেম মোঃ বশিরুল্লাহ ছিলেন বাহের চর ইসলামীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পাঁচবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দক্ষিণাঞ্চলে তিনি একজন প্রসিদ্ধ তাফসিরকারকও হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

অ্যাডভোকেট ইউনুস জানান, তাঁর সন্তানদের নাম রাখার ক্ষেত্রেও রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্যের ছাপ। সন্তানদের নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর রাখা হয়েছে বাবা ইউনুস এর নামের আদ্যক্ষরের সঙ্গে মিল রেখে এবং দ্বিতীয় অংশের প্রথম অক্ষর রাখা হয়েছে দাদা হাশেম এর নামের সঙ্গে মিল রেখে। নামগুলো আরবী হলেও প্রতিটির সুন্দর বাংলা অর্থ রয়েছে।

নবজাতকসহ চার সন্তানের সুস্থতা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন অ্যাডভোকেট হাফেজ মোঃ ইউনুস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top