পরীক্ষার হলে মা, বাইরে শিশু সন্তানের দায়িত্ব নিলেন পুলিশ সদস্য

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

এক হাতে দায়িত্বের সরঞ্জাম, আরেক হাতে ছোট্ট এক শিশু। পরীক্ষাকেন্দ্রে এমন দৃশ্যের জন্ম দিয়েছেন সাতক্ষীরা পুলিশের সদস্য শিল্পী। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা এক মা যখন শিশুকে কোথায় রেখে পরীক্ষা দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন, তখনই নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি শিশুটির দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে জেলা প্রশাসনের অধীনে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে দেখা যায় এমন মানবিক দৃশ্য। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলে পরীক্ষা।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছিলেন ওই নারী। পরীক্ষা শুরুর সময় যতই ঘনিয়ে আসছিল, ততই বাড়ছিল তার উদ্বেগ। কারণ, শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য সঙ্গে ছিলেন না কেউ। একদিকে চাকরির পরীক্ষা, অন্যদিকে ছোট সন্তান, দুই দুশ্চিন্তায় যেন আটকে গিয়েছিলেন তিনি।

বিষয়টি খেয়াল করেন পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য শিল্পী। মায়ের অসহায়ত্ব বুঝতে পেরে তিনি নিজেই শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। এরপর শিশুটিকে কোলে তুলে নেন তিনি।

মা চলে যান পরীক্ষার হলে। আর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা শিল্পীর কোলে নিশ্চিন্তে থাকে শিশুটি। পুরো এক ঘণ্টা শিশুটিকে নিজের কাছে রেখেই পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শিল্পী সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে কর্মরত। অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।

ঘটনাটি নজর কাড়ে কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ পরীক্ষার্থী ও স্বজনদের। উপস্থিত কয়েকজন জানান, চাকরির পরীক্ষায় একজন মায়ের জন্য প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়ে সন্তানের চিন্তা দূর করে তাকে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া ছিল শিল্পীর অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ।

পুলিশ সদস্য শিল্পী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলাম। একজন মা তার ছোট সন্তানকে নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার সময় শিশুটিকে দেখাশোনা করার কেউ না থাকায় তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাই শিশুটিকে আমার কাছে রেখে তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি।’

এক ঘণ্টার নিয়োগ পরীক্ষা শেষে হয়তো পরীক্ষার্থীর হাতে ছিল উত্তরপত্র, আর পুলিশ সদস্য শিল্পীর কোলে ছিল শিশুটির মায়াভরা নিশ্চিন্ততা। বড় কোনো দায়িত্বের বাইরে ছোট্ট এই মানবিক উদ্যোগটিই সেদিন পরীক্ষাকেন্দ্রে পুলিশের ভিন্ন এক পরিচয় তুলে ধরেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top