ভিজিএফের চাল আত্মসাৎ মামলায় বাদী-সাক্ষী সবাই ইউপি সদস্য

ছবি : মামলার আসামি মো. ফজলুল হক বাচ্চু

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

বরগুনার তালতলীতে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বরগুনা সিনিয়র স্পেশাল ট্রাইবুনাল-১ আদালতে দুর্নীতি দমন আইনে মামলাটি করেন একই ইউনিয়নের অপর ইউপি সদস্য মুহাম্মদ রেদওয়ান উল্লাহ।

বিচারক সাইফুর রহমান আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পটুয়াখালী সমন্বিত কার্যালয়কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার আসামি মো. ফজলুল হক বাচ্চু কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান। বাদী মুহাম্মদ রেদওয়ান উল্লাহ একই ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য ও ২ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান। মামলায় ছয়জন সাক্ষী রাখা হয়েছে, তারাও সবাই ওই ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও নদ-নদীতে জাটকা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত চার মাসের জন্য মোট ৬৬ টন ৮৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়। এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি স্মারক জারি করা হয় গত ৩ মার্চ ও ২ এপ্রিল।

অভিযোগে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় জেলেদের মধ্যে মানবিক সহায়তার চাল বিতরণের দায়িত্ব লিখিতভাবে দেওয়া হয় ইউপি সদস্য মো. ফজলুল হক বাচ্চুকে। পরে গত ১০ এপ্রিল ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৭৬৫ জন জেলের মধ্যে ৮০ কেজি করে মোট ৬১ টন ২০০ কেজি চাল বিতরণ করা হলেও অবশিষ্ট ৫ টন ৬৮০ কেজি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

বাদীর দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি হয়েও অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য গত ২২ এপ্রিল বরগুনা জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক এবং পটুয়াখালী সমন্বিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে ৪ জুন দুদকের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. ফজলুল হক বাচ্চু। তার দাবি, আমার বিরুদ্ধে আনা চাল আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনেই সব বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. জিয়াউদ্দিন বললেন, সরকারি চাল আত্মসাতের তথ্যের ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়েছে। আদালত দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

আগামীর সময়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top