বরিশাল জার্নাল ডেস্ক
ইনকিলাব মঞ্চের পরিচিত মুখ ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা সম্প্রতি এশিয়া পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির সঙ্গে প্রথম পরিচয় ও শেষ দেখার স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
জুমা জানান, গণসিজদা ও দ্রোহের গান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়েই হাদির সঙ্গে তার প্রথম পরিচয়। তার মতে, এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল না, বরং একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ এবং সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের সূচনা।
তিনি জানান, হাদি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ও দূরদর্শী নেতা। ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন ও রাজনীতিতে তার গভীর জ্ঞান ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন চিন্তাবিদের কাজ তিনি বিশ্লেষণ করতেন দক্ষতার সঙ্গে।
জুমার মতে, হাদির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার মানবিকতা। সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ় কণ্ঠে কথা বললেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মমতাময়। এই দ্বৈত ব্যক্তিত্বই তাকে অনন্য করে তুলেছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে গিয়ে অনেক সময় হাদিকে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতেও দেখেছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, হাদির সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরে জুমা বলেন, সেটি তার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত। তখন তিনি ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা পরিকল্পনা চলছিল।
জুমা জানান, তিনি হাদিকে ১৬ ডিসেম্বর একটি বড় কর্মসূচির কথা বলেছিলেন। হাদি তাকে পরিকল্পনা সাজাতে বলে নিজেও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি চাঁদপুর সফর ও নির্বাচনি প্রচারণা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।
জুমা বলেন, আমাদের অনেক পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হিসেবে জুমা উল্লেখ করেন, হাদির কোনো চূড়ান্ত বার্তা নেই, কোনো বিদায় নেই। আমরা জানতাম না যে এটি আমাদের শেষ কথোপকথন হবে। যদি জানতাম, আমি অন্যরকম কথা বলতাম। তাকে আরও কিছু প্রশ্ন করতাম, তার আরও বেশি পরামর্শ নিতাম।
ফাতিমা তাসনিম জুমার মতে, জীবন কখনও আগাম সংকেত দেয় না—এই নির্মম সত্যটাই আজ সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়। এশিয়া পোস্ট




