জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় প্রতারণার দলিল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরিশাল জার্নাল ডেস্ক

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি বৈধতা নেই এবং এটি সূচনা থেকেই অবৈধ’ বলেও মন্তব্য করেন।

 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক নির্ধারিত আলোচনার জবাবে এসব কথা বলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে ৩০ তপশিল দেওয়া হয়েছে। আমি তো মনে করেছি ৪৮টা তপশিল ধরিয়ে দেওয়া হবে, কমপক্ষে ৪৭টা।’ এ সময় তিনি স্পিকারকে সনদ দেখিয়ে বলেন, ‘ঐকমত্য হয়েছে উইথ নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত)। কিন্তু এখানে নোট ডিসেন্টের প্রশ্নটা কোথায়? অংশটা কোথায়? আপনি প্রস্তাবটা করলেন, আর নোট অব ডিসেন্টসহ লিখলেন না, তার মানে হচ্ছে এটা একটা জাতীয় প্রতারণার দলিল।’

 

গণভোটের ব্যালট নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন দিয়ে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এটি তো কলার ভেতরে তিতা ওষুধ ঢুকিয়ে জোর করে খাওয়ানোর মতো অবস্থা। কোনো আইনকে আপনি জাতিকে এভাবে বাধ্য করে খাওয়াতে পারেন না।’

 

অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিম গভমেন্ট, অস্থায়ী গভমেন্ট। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো মৌলিক কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। তারা কীভাবে একটা অবৈধ আদেশ জারি করে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে?’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাননীয় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে তখন কথা বলেছিলাম, যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনি কি আদেশ জারি করতে পারেন? বলেন, আমি তো পারি না, কিন্তু আমাকে পারাচ্ছে। এখন রাজহংসকে জোরপূর্বক স্বর্ণের ডিম পাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনা। যা-ই হোক এখন সেটা অবৈধ ডিম্ব হয়েছে।’

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন।’

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আর্টিকেল ৭২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন। উপদেষ্টা হিসেবে যখন শপথ নিয়েছেন তখন সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতি ভালো ছিলেন। আদেশটা বৈধ আইন না।’

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি এটি করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।’

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য একটি ব্যালট দিয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কোনো আলাদা ব্যালট ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, অস্তিত্বহীন কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Scroll to Top